আপনি থিসিস করেন কিংবা গবেষণা আর্টিকেল লিখেন , সাধারণত এই অংশগুলো থাকে-

Title
Abstract
Introduction
Literature Review
Conceptual and Theoretical framework
Methodology
Results/Findings & Discussion
Conclusion
Reference

টাইটেল,অ্যাবস্ট্রাক্ট মেথডোলজি এবং কনক্লিউশন ; এগুলো মোটামুটি ছোট অংশ ।

টাইটেল,অ্যাবস্ট্রাক্ট ,ইন্ট্রোডাকশন মেথডোলজি এবং কনক্লিউশন ; এগুলো লেখার জন্য কোন সফটওয়্যার প্রয়োজন নেই । আপনার হাতে যদি সিমিলার কয়েকটি থিসিস থাকে , তাহলে সে নমুনাগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজেই এই অংশগুলো লিখে ফেলতে পারবেন । তবে এই অংশগুলোসহ গবেষণায় প্রত্যেকটি অংশে , কিছু টুলসের প্রয়োজন হয়, সেগুলো সম্পর্কে লিখছি ।

1.Grammar checker-(Grammarly*/Ginger)

ইংরেজি যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা না । তাই আমাদের লেখার মধ্যে ব্যাকরণগত এবং ভাষাগত অনেক ভুল থাকতে পারে । আপনি চাইলে সহজেই এখান থেকে ঠিক করে নিতে পারেন । সর্বোচ্চ আউটপুট পেতে চাইলে প্রিমিয়াম ভার্শন কিনতে পারেন ।

2. paraphrasing and writing tools-(Quillbot*/Word Ai/Ref-n-Write/Pro Writing Aid)

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি Quilbot,Word Ai খুবই ভালো । তবে Ref-n-Write/Pro Writing Aid খুবই অ্যাডভান্স।Quilbot এর বিনামূল্য ভার্শন আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করবে। অন্য টুলসগুলো আপনাকে নামমাত্র মূল্যে কিনে নিতে হবে ।

3.Editing text software (Word*, OpenOffice, LaTeX*), Scrivener…)

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর কাজ খুব ভালোমতো জানা থাকলে বাকি সফটওয়ারগুলো না শিখলেও হবে । তবে বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ল্যাটেক্স শেখা যেতে পারে । আমি গবেষণার দুটি সফটওয়্যার শিখে সবচেয়ে বেশি আনন্দলাভ করেছিলাম , তার মধ্যে একটি হলো লাটেক্স ।

জার্নাল অনুযায়ী লেখা সাজানো , অটোমেটিক সূচিপত্র বানানো, ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া যাবে ।
আমি Office 365 ব্যবহার করি । এখানে ভয়েস ইনপুট দেওয়ার সুবিধা আছে , ফলে আমাকে কষ্ট করে টাইপ করতে হয় না ।

4. Presentations (PowerPoint*, Prezi…)

Office 365 তে দারুন একটি সুবিধা আছে । সেটি হলো অনলাইন থেকে কোন একটি লেখা কে নিয়ে ,সেটিকে অটো পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড এ রূপান্তরিত করা যায় । আপনারা যারা পারবেন না আমাকে নক দিয়েন ।

5.Conceptual and Theoretical framework(Diagram. net*,creatly*,Canva)

এই অংশগুলোতে অনেক সময় ডায়াগ্রাম বা চিত্র আঁকতে হয় । মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ডে যদিও চিত্র অঙ্কন করা যায় , তবে সেটি সুন্দর হয়না । আপনারা চাইলে Diagram. net,creatly,Canva এই ওয়েবসাইট গুলো থেকে মুহূর্তেই কাঙ্খিত ডায়াগ্রাম তৈরি করে নিতে পারবেন ।

6.Results/Findings & Discussion

এই অংশকে কোয়ালিটিভ এবং কোয়ান্টিটিভ দুটি ভাগে ভাগ করে বোঝালে সহজ হবে ।
Quantative Analysis (SPSS*, STATA, R, …)
SPSS এর কাজ ভালোমতো জানলে সোশ্যাল সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডে শিক্ষার্থীদের বাকি সফটওয়ারগুলো না শিখলেও মোটামুটি চলে । R শিখতে পারেন , অ্যাডভান্স এনালাইসিস করতে পারবেন । পাশাপাশি খুব সুন্দর সুন্দর ফিগার বের করতে পারবেন ।
Qualitative research software (Atlas.ti,NVivo,Quirkos*,MAXQDA…Excel*)

এতগুলা সফটওয়্যার দেখে মোটেও ঘাবড়ে যাবেন না । গুণগত গবেষণা করার ক্ষেত্রে সাধারণতঃ সফটওয়্যার না হলেও চলে বা এক্সেল ব্যবহার করেই থিমেটিক এনালাইসিস করে ফেলা যায় । ব্যক্তিগতভাবে আমি এই দুটি সফট্ওয়ারে Quirkos,MAXQDA এর কথা বলবো । আপনারা চাইলে দেখে নিতে পারেন শিখে নিতে পারেন ।

7.Questionnaire survey(Kobo toolbox*,Google form*)

Kobo toolbox খুবই স্মার্ট একটি টুলস । রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ পেতে হলে এই টুলস এর কাজ জানা আবশ্যক ।

8.Plagiarism Checker(Turnitin*, Viper,I-thenticate, Checker X*)

DupliChecker,Paperrater,Plagiarisma,Search Engine Reports,PlagTracker,Plagium,CopyLeaks,Ephorus,Quetext অনেকেই এসব সোর্স থেকে প্লেজারিজম চেক করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন । কিন্তু একাডেমিক লেখায় এই টুলসগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। অনলি Turnitin ইজ বস ।

9.Bibliography manager (Zotero*, Mendeley*,EndNote, …)

রেফারেন্সিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই রেফারেন্সিং করে ফেলা যায় ।Zotero সফটওয়ারটি শেখা আমার জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে আমি মনে করি ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে হলে এই সফটওয়্যার গুলো শেখা অত্যন্ত দরকার । Zotero এবং Mendeley আমি ব্যবহার করি।
আমার কিছু কথা-

নিজের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ,ইন্টারনেট ইউটিউব থেকে বিভিন্ন কোর্স এবং এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বুয়েট থেকে এখানকার প্রায় সবগুলো টুলস এবং কীছূ সফটওয়্যার কাজ শিখেছি । এখানকার প্রত্যেকটা ক্যাটাগরিতে অন্তত একটি সফটওয়্যার বা টুলস(* স্টার চিহ্নিত) এর কাজ শিখে নিতে পারে।

মোরশেদ আলম
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়