বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ইনস্টিটিউট হতে ইস্যুকৃত ই–মেইলই হচ্ছে ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল বা .edu মেইল। বস্তুত সাধারণ ই–মেইল আর ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তবে এই ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইলে যে কত রকম সুবিধা রয়েছে, তা আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই হয়তোবা না–ও জানতে পারেন। এমনকি বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ইনস্টিটিউশনাল ইমেইল ব্যবহারের সুবিধাই নেই।

একাডেমিক মেইলের সুবিধা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। জিমেইল, ইয়াহু কিংবা বিভিন্ন মেইল সার্ভিস থেকে ফ্রি তে খুব সহজেই ইমেইল একাউন্ট খুলতে পারা যায়।

কিন্তু তার পরেও বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল দেয়ার ব্যবস্থা করে।

প্রাতিষ্ঠানিক মেইলের সবচেয়ে বড় সুবিধা
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা। কারণ, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল শুধু মাত্র প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই পেয়ে থাকেন।যে কেউ চাইলেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারে না।

একটা উদাহরণ দেই, ধরা যাক এক ব্যক্তি ওয়াল্টন এ চাকুরী করেন। এখন যদি তিনি তার রেগুলার ইমেইল এড্রেস থেকে কোন একটা স্পন্সরশিপ এর ব্যাপারে মেইল না পাঠিয়ে তার প্রাতিষ্ঠানিক মেইল someone@walton.com.bd থেকে মেইল পাঠান তাহলে তার উপর বেশি ভরসা তৈরী হবে। কারণ, এই মেইল দ্বারা ই প্রমাণ হয় সে ওয়াল্টনে চাকুরী করে।

এই walton.com.bd ডোমেইনটি ওয়ালটনের একান্ত নিজস্ব। যেই ডোমেইন দিয়ে তাদের অনুমতি ছাড়া বাইরের কারো পক্ষে মেইল একাউন্ট খোলা সম্ভব না।

একই জিনিস বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্ষেত্রেও। যেমন abcd@buet.ac.bd। পৃথিবীর যে কোন মানুষ গুগলে এই ডোমেইন সার্চ করে দেখতে পাবে যে এটা বাংলাদেশের একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।

তাই স্কলারশিপ বা কোন একাডেমিক কাজে এই ইমেইল থেকে মেইল পাঠালে অন্য কোন ডকুমেন্ট ছাড়াই প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়ে যায় যে সে বুয়েট এর ছাত্র।

প্রাতিষ্ঠানিক/ইন্সটিটিউশনাল ই-মেইল আর কী কী সুবিধা দেয়?

প্রাতিষ্ঠানিক মেইল একটি কমন টার্ম। প্রতিষ্ঠান তো বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এর মাঝে বুয়েটের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পড়ে। সাধারণ ভাবে সুবিধা বলতে আমরা ফ্রি জিনিসপত্র বুঝে থাকি।

তো কোন কোম্পানির ইমেইল এড্রেস ধারীরা তেমন কোন ফ্রি জিনিসপত্র পান না। পাবেন ই বা কেন? তারা তো অনেক টাকা বেতনই পান। :3

তবে মজার ব্যাপার হলো বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি, বিশেষ করে টেক কোম্পানি ও যারা ডিজিটাল সার্ভিস নিয়ে কাজ করে তারা স্টুদেন্ট দের জন্য অনেক ফ্রি জিনিস কিংবা ডিস্কাউন্ট রাখে। অনেকটা আমাদের দেশের স্টুডেন্ট দের হাফ ভাড়া এর মতো।

এটা ঐসব কোম্পানির সিএসআর এক্টিভিটিজ এর অংশ। পাশাপাশি তারা এভাবে শিক্ষার্থীদের হেল্প ও করতে পারছে ক্রিয়েটিভ কাজ করতে।

আর তারা তাদের এসব ফ্রি জিনিস পত্র দেয়ার জন্য ভেরিফিকেশন মাধ্যম হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক মেইল ব্যবহার করে থাকে। কোন কোন কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক মেইলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কি কি বেনিফিট রেখেছে তার লিস্ট করা অসম্ভব।

অনেক কোম্পানি আর অনেক সার্ভিসেই এই বেনিফিট পাওয়া যায়। তবে কিছু জিনিস শুধুমাত্র ইউএসএ এর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক্সক্লুসিভ। (দেশের জন্য মায়াটা বেশি থাকাই তো স্বাভাবিক, তাই না?)

প্রাতিষ্ঠানিক মেইল? এডু মেইল? ইন্সটিটিউশনাল মেইল? একাডেমিক মেইল?

প্রাতিষ্ঠানিক মেইল হলো কমন টার্ম। এটা কোন কোম্পানির বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে কোন কিছুর হতে পারে। এদের মাঝে যেগুলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেয় ঐগুলোকে একাডেমিক বা ইন্সটিটিউশাল মেইল বলা হয়।

তাহলে এডু মেইল কোনটা?

এডু মেইল হলো একাডেমিক মেইল যেটা .edu ডোমেইন নেম ব্যবহার করে। একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকম ডোমেইন ব্যবহার করে। যেমনঃ বুয়েট .ac.bd ডোমেইন ব্যবহার করে। আবার সাস্ট .edu ডোমেইন ব্যবহার করে।

ডোমেইন এর ভালো খারাপ, কমদামী, বেশি দামী কিছু নেই। দুনিয়ার সব ডোমেইনই ICANN স্বীকৃত এবং সমান ভ্যালু বহন করে। এখন বুয়েট যদি .rocks ডোমেইন ব্যবহার করতো তাহলে এরকম ইমেইল এড্রেস হত someone@buet.rocks।

তখন এটাই হতো একাডেমিক ইমেইল এড্রেস এবং এটা দিয়েই একাডেমিক ইমেইলের বেনিফিট পাওয়া যেতো।

কিন্তু নরমালি এমন হয় না, কারণ .edu কিংবা .ac ডোমেইনগুলো একাডেমিক ইন্সটিটিউশন গুলো বেশি ব্যবহার করে বিধায় এসব ডোমেইন দেখলে সহজেই বুঝা যায় যে এটা একটা স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কারণ, এ ধরনের ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাধারনত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেখাতে হয়। তাই যে কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে পারে না।

তাহলে কি .ac.bd মেইল এডু মেইল না?

না, এটা একটা একাডেমিক মেইল যা .ac.bd ডোমেইন ব্যবহার করে। এটাই বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বীকৃত ডোমেইন। .edu হলো ইউএসএ এর প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরী।

যদিও চাইলে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠান ও .edu ব্যবহার করতে পারে, অনেকটা সাস্ট এর মতো। কিন্তু কি দরকার? যেহেতু আমাদের দেশের ভার্সিটির জন্য বিটিসিএল .ac.bd এর ব্যবস্থা করে রেখেছে। আমাদের দেশের আরেকটা ডোমেইন আছে .edu.bd যেটা শিক্ষা বিষয়ক সাইটগুলো ব্যবহার করতে পারে।

আগেই বলেছি, ডোমেইন ব্যবহারের কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। যে যেটা চায় ব্যবহার করতে পারে। তবে এর কিছু বেস্ট প্র্যাক্টিস আছে এই আর কি!

যেহেতু বুয়েট একটি বড় প্রতিষ্ঠান তাই .ac.bd ডোমেইন নিয়েও একাডেমিক মেইলের সব সুবিধাই পাওয়া যায়। কারণ কোম্পানিগুলো জানে যে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই .ac ডোমেইন ব্যবহার করে।

তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রম। তারা শুধু .edu ইমেইলধারীদের সুবিধা দেয়। কারণ, তারা ঐসব বেনিফিট আমেরিকান স্টুদেন্ট দের জন্য এক্সক্লুসিভ ভাবে রেখেছে।

তবে এই ফাঁকে বাংলাদেশী কিছু প্রাইভেট ভার্সিটি যারা বাংলাদেশী ডোমেইন ব্যবহার না করে .edu ডোমেইন ব্যবহার করে তারাও সেই সুবিধা পাচ্ছে। তবে এধরনের কোম্পানি হাতে গোনা কয়েকটা।

একজন শিক্ষার্থীর জন্য ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল হতে পারে আশীর্বাদস্বরূপ। যেসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে গুনতে হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ, সেখানে শুধু ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল ব্যবহারের ফলে একজন শিক্ষার্থী একই ধরনের সেবা পেতে পারেন অনেক কম খরচে অথবা বিনা খরচে।

আনলিমিটেড গুগল ড্রাইভ স্টোরেজ!

প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের প্রতিষ্ঠানের সভাইকে মেইল সার্ভিস দেয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। একটা হচ্ছে নিজেরা মেইল সার্ভার বানিয়ে সেটা থেকে সার্ভিস দেয়া।

এটা আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য খুব বেশি সহজ কাজ না। আর কি ই বা দরকার যখন বিভিন্ন কোম্পানি এই সাপোর্ট টা দেয়?

এমন ই একটা সার্ভিস হলো জি স্যুইট ফর এডুকেশন। এটা গুগলের সার্ভিস। গুগল এর আওতায় কোণ একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেইল সার্ভিস নিজেরাই ম্যানেজ করে ডিস্ট্রিবিউট করে থাকে।

সেক্ষেত্রে ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন পুরো ব্যাপারটির এডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আর সব শিক্ষার্থী হয় এটার ইউজার।

এর আওতায় এডমিন ভার্সিটির পক্ষ থেকে ভার্সিটির টাকায় গুগল এর বিভিন্ন পেইড সার্ভিসে সাবস্ক্রাইব করতে পারে। তারপর সেগুলো স্টুডেন্ট রা ব্যবহার করতে পারে ফ্রি তে।

যেসব ভার্সিটি জি স্যুইট ব্যবহার করে,  তাদের শিক্ষার্থীরা এক্সেস নেয়া গুগল এর যে কোন সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবে ফ্রি তে। রুয়েট, চুয়েট জি স্যুইট ব্যবহার করে। বুয়েট ব্যবহার করে মাইক্রোসফট এর অফিস ৩৬০ সার্ভিস।

তবে ড্রাইভে কে কি রাখছে সেটার কন্ট্রোল এডমিন এর কাছে থাকবে। এডমিন চাইলে কোন নোটিশ ছাড়াই সব ডিলিট করেও দিতে পারে।

তাই এতে ব্যক্তিগত জিনিস না রাখাই ভাল। সেক্ষেত্রে ক্লাস নোটস, চোথা কিংবা টিউটোরিয়াল ভিডিও রাখা যেতে পারে। এটা খুব চমৎকার একটা ব্যাপার।

গিটহাব স্টুডেন্ট ডেভেলপার প্যাক

গিটহাব হলো মাইক্রোসফট এর মালিকানাধীন ডেভেলপার দের জন্য একটি সার্ভিস। মাইক্রোসফট আর সব বড় বড় কোম্পানির মতোই ছাত্রদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠা এবং নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করে দেয়ার জন্য কাজ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় তাদের একটি সার্ভিস হলো গিটহাব স্টুডেন্ট ডেভেলপার প্যাক। গিটহাব স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্যাকে ১২টি সুবিধা শিক্ষার্থীরা উপভোগ করতে পারেন।

এই সার্ভিস একাডেমিক মেইল ব্যবহার করে সহজেই নেয়া সম্ভব। এজন্য একাডেমিক ইমেইল ব্যবহার করে গিটহাবে সাইন আপ করতে হবে অথবা নিজের গিটহাব একাউন্টে একাডেমিক মেইলটা যোগ করতে হবে। এই লিঙ্কে গিয়েই সেটি করা সম্ভব। সেই সাথে বিস্তারিত ও জানতে পারবেন।

গিটহাব প্রায় ১০০ এর ও বেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করে তাদের সার্ভিস গুলো ফ্রি তে স্টুডেন্ট দের জন্য এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। সব সার্ভিস সবার জন্য দরকার নেই।

এগুলোর বেশিরভাগ ই কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া কিংবা ডেভেলপারদের জন্য। কিন্তু কিছু কমন সার্ভিস ও উয়েছে যেগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীরও লাগতে পারে।

যেমনঃ নেইমচিপ থেকে পছন্দের ফ্রি ডোমেইন, নেইম ডট কম থেকে ফ্রি ডোমেইন, এক বছরের জন্য ফ্রি ওয়েব হোস্টিং, এক বছরের জন্য গ্রাফিক ডিজাইন টুল ক্যানভার ফ্রি সাবস্ক্রিপশন, মাইক্রোসফট ও এমাজন থেকে ফ্রি ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা, ইউনিটির মতো গেইম বানানোর সফটওয়ার এর লাইসেন্স এবং এরকম আরো শতাধিক সুবিধা। এগুলো ব্যবহার করে কেউ চাইলে নিজের কাস্টমাইজড ইমেইল যেমন hasan@mahbub.com কিংবা নিজের ছোট্ট ফেসবুক ভিত্তিক স্টার্টআপটির জন্য ফ্রি তে ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারবে। কি চমৎকার ব্যাপার!

  • আপনি যদি গবেষণা করতে চানন, তাহলে আপনাকে নিশ্চয়ই রিসার্চগেট, স্প্রিঙ্গার-এর মত কমিউনিটিতে মেম্বার হওয়া লাগবে। আর এসব প্লাটফর্মে একাউন্ট খুলতে গেলে আপনার একাডেমিক ইমেইল ছাড়া খুলতে পারবেন না। ট্র্যাডিশনাল ইমেইল দিয়ে এসব জায়গায় একাউন্ট খোলা যায় না।
  • যারা প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করেন বা করবেন ভবিষ্যতে, তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্লাটফর্ম হচ্ছে Github। গিটহাবে স্টুডেন্টদের জন্য রয়েছে Github education pack । যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন প্রকার ডেভেলপার টুল ব্যবহার করতে পারবেন বিনামূল্যে। পাশাপাশি পাবেন আনলিমিটেড প্রাইভেট রিপোজিটরিজ। শিক্ষার্থীরা ফ্রিতে এই সুবিধা পেলেও সাধারণ মানুষকে এর জন্য মাসিক ৭ ইউএস ডলার গুনতে হয়।
  • G-suite ব্যবহার করতে পারবেন একদম বিনামূল্যে। (এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটও হস্ত করতে পারবেন।)
  • MATLAB ফ্রি তে ইউজ করা যায়।
  • Onedrive এ 1TB স্পেস পাওয়া যায়।
  • Office 365 এর বেসিক প্ল্যান ইউজ করা যায় ফ্রি তে।
  • Adobe CC তে 60% ডিসকাউন্ট দেয়।
  • Jetbrains এর সব সফটওয়্যারে ১ বছরের লাইসেন্স দেয়।
  • ফ্রি .me domain পাওয়া যায়। নেমচিপ.কমে ১ বছরের জন্য মাত্র বার্ষিক ১৮.৯৯ ইউএস ডলারের বিনিময়ে .me ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন এবং ১ বছরের এসএসএল সার্টিফিকেট, যার জন্য শিক্ষার্থীদের খরচ হয় বার্ষিক মাত্র ১০ ইউএস ডলার।
  • Bitbucket এ আনলিমিটেড প্রাইভেট রেপোজিটরি।
  • Skillshare এ দুই মাসের প্রিমিয়াম অ্যাক্সেস।এগুলো ছাড়াও আরও অনেক বেনিফিট আছে।
  • যারা মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করতে চান, Microsoft Azrue এর কথা শুনে থাকবেন। একাডেমিক ইমেইলের মাধ্যমে এর স্টুডেন্ট প্যাক পাওয়া যায়।
  • গিটহাবের মতো amazon web services রয়েছে এডুকেশনাল সুবিধা। ১৫ ইউএস ডলার অ্যামাজন এডব্লিউএস কুপন পাওয়া যাবে। যার জন্য আপনার প্রয়োজন পড়বে একাডেমিক ইমেইলের।
  • Dropbox Mega ও Pcloud এ অধিক ক্লাউড স্টোরের সুবিধা।
  • অ্যাপলের প্রোডাক্ট / মাইক্রোসফটের প্রোডাক্ট / ডেলের প্রোডাক্ট কিনতে চান? একাডেমিক ইমেইল ব্যবহার করে পাবেন এক্সট্রা ডিসকাউন্ট।
  • Autodesk এর মতো হাইলি-পেইড সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করতে পারবেন সম্পুর্ন বিনামুল্যে।

⇨১২ মাসের জন্য ৫০ ইউএস ডলার ডিজিটাল ওস্যান কুপন।

⇨বিটন্যামি তে এক বছরের ফ্রি সুবিধা, যার জন্য সাধারণত মাসিক ৪৯ ইউএস ডলার খরচ করতে হয়।

⇨ক্লাউডফ্লাওয়ার এক্সেস।

⇨ডিএনসিম্পলে দুই বছরের জন্য ফ্রি ডিএনএস প্ল্যান সুবিধা, যা সাধারণত মাসিক ৫ ইউএস ডলার খরচ করে পেতে হয়।

⇨হ্যাকহ্যান্ডসে ২৫ ইউএস ডলার ক্রেডিট, যা শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শিখতে সাহায্য করে।

⇨মাইক্রোসফট ক্লাউড, ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কমিউনিটি এবং অন্যান্য ডেভেলপার টুলসের ফ্রি এক্সেস।

⇨অর্কেস্ট্রেটের ডেভেলপমেন্ট অ্যাকাউন্টে এক্সেস। শিক্ষার্থীরা মাসিক ৪৯ ইউএস ডলার খরচ করে এ সুবিধা পেতে পারেন।

⇨সেন্ডগ্রিডে ১৫,০০০ ফ্রি ই–মেইলের সুবিধা।

⇨ট্যারাভিস সিআইর প্রাইভেট বিল্ডে এক্সেস। যার জন্য একজন শিক্ষার্থীর খরচ হয় মাসিক মাত্র ৬৯ ইউএস ডলার।

☞অ্যামাজন স্টুডেন্ট প্যাক
একজন শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল ব্যবহার করে ছয় মাসের জন্য অ্যামাজন প্রাইমের ফ্রি সার্ভিস পেতে পারেন।

সেই সঙ্গে থাকে বিভিন্ন পণ্যের ওপর দুই দিনের ফ্রি শিপিং এবং মুভি, টিভি শো এবং গানের আনলিমিটেড স্ট্রিমিং। এ ছাড়া অ্যামাজন প্রাইম ফোটোজের আনলিমিটেড স্টোরেজ সুবিধা।

মাইক্রোসফট ড্রিমস্পার্ক: মাইক্রোসফটের অসংখ্য সফটওয়্যার শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যেই নিতে পারেন ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল ব্যবহারের মাধ্যমে। এ ছাড়া মাইক্রোসফট অফিসের ৩৬৫ ফ্রি সাবস্ক্রিপশনও থাকে শিক্ষার্থীদের জন্য।

☞অ্যাপল: শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল ব্যবহার করে অ্যাপল কম্পিউটারে ২০০ ইউএস ডলার পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন।

এ ছাড়া অ্যাপল মিউজিকে যেখানে একজন গ্রাহককে মাসিক ১০ ইউএস ডলার গুনতে হয়, সেখানে একজন শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল ব্যবহার করে এই সুবিধা পেতে পারেন মাত্র ৪.৯৯ ডলারে।

☞ওয়েবহোস্টিং: জেডনেটলাইভ, সাইটগ্রাউন্ড, লুহোস্ট, স্কয়ারস্পেস, ইনমোশন হোস্টিং, ড্রিমহোস্টের সুবিধা শিক্ষার্থীরা পেতে পারেন একদমই বিনা খরচে শুধু ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল ব্যবহার করে।

☞নিউজপেপার এবং ম্যাগাজিন: বিশ্বের বিভিন্ন প্রসিদ্ধ খবরের কাগজ ও ম্যাগাজিন যেগুলোতে উচ্চ সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়, সেগুলোতে শিক্ষার্থীরা অনেক কম সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়েই সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এর মধ্যে রয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইকোনমিস্টের মতো নিউজপেপারও।

অন্যান্য ফ্রি সার্ভিস

আরো অসংখ্য ফি সার্ভিস রয়েছে যেগুলো একটু গুগল করলেই খুঁজে পাওয়া যাবে। কিছু সার্ভিসের এমনিতেই পাওয়া যায় আবার কিছু সার্ভিসের জন্য ভার্সিটি অথরিটি কে ঐ কোম্পানির সাথে চুক্তি করে নিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ফ্রি, শুধু ভার্সিটি অথরিটির দুয়েকটা মেইল করা লাগে।

এ ছাড়া আরও অনেক সুবিধাই পাওয়া যায় ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল বা .edu মেইল ব্যবহার করে। নিউএগ প্রিমিয়ার, অটোডেস্ক, ডেল, লাস্টপাসে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর ছাড় এবং ফ্রি সাবস্ক্রিপশনের ব্যবস্থা থাকে।

তা ছাড়া অফিশিয়াল কাজের জন্য ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইলের ব্যবহার যেকোনো সময়ই বেশি লাভজনক। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সাধারণ ই–মেইলের চেয়ে ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইল বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

শিক্ষার্থীরা এর যথাযথ ব্যবহার করে নিজের অবস্থানকে আরও জোরদার করতে পারেন। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের ইনস্টিটিউশনাল ই–মেইলের ব্যবহারের বিকল্প নেই।

আপনি যদি বিদেশে পড়াশুনা করতে চান এবং সেখানে মেইল করেন তাহলে সাধারণ মেইলের চেয়ে এসব প্রাতিষ্ঠানিক মেইলের গুরুত্ব বেশি দেয়া হয় । মোটকথা, এই মেইল থেকে যেখানেই আপনি নক করবেন সেখান থেকেই আশাব্যঞ্জক সাড়া পাবেন ।

এটা কিভাবে পাবেন ?

এটা পেতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি/আইসিটি বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে । আপনার আইডি কার্ড দিয়ে আবেদন করলেই কয়েকদিনের ভেতর এটা পেয়ে যাবেন। তবে চেষ্টা করতে হবে যে, আপনি যেন শিক্ষাবর্ষের একদম শুরুতে এটা নিতে পারেন ।

এতে করে আপনি পুরো ৩/৪ বছর অর্থাৎ ওই প্রতিষ্ঠানে যতদিন থাকবেন ততদিন ব্যবহার করবেন । শিক্ষাবর্ষের শেষের দিকে এসেও নিতে পারেন তবে বেশি সুবিধা আদায় করতে চাইলে আপনি কলেজে ভর্তি হয়েই এটা নিয়ে নিবেন । এটা স্কুল থেকে দেয় না ।

আপনি কলেজ জীবন থেকে এটা ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে সেখানে নতুন আইডি দেয়া হবে। এটা শুধুমাত্র যে প্রতিষ্ঠানে পড়েন তারাই আপনাকে প্রদান করবে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ আপনাকেই করতে হবে ।