আপনি যদি জার্নাল পাব্লিশ / Research এর এরিয়া তে নতুন হয়ে থাকেন ; তাহলে বেসিক জিনিস গুলি শিখে নিতে পারেন এই পোস্ট থেকে। আমি নিচের তিন টি পয়েন্ট এ ক্লিয়ার করেছি ;

বিদেশের একটি ভালো varsity তে আপনি যখন অ্যাপ্লাই করছেন MSc/ PhD তে ; আপনার CGPA 3.8 বা 3.9 না কিন্তু কি কারণে অনেক Indian কিংবা Chinese Applicant কে বাদ দিয়ে আপ্নাকেই ওই খানে Scholarship / admission দিবে ? আপনার মত ভালো IELTS score / ভালো Recommendation letter / SOP আরও অনেকের ই থাকার কথা ।

এই জন্যই student দের বলি ঃ Corona এর টাইম টা ঘরে হাত গুঁটিয়ে বসে না থেকে জার্নাল পাব্লিশ এর / Research শিখার কাজে লাগাতে পারেন । ভালো জার্নালে দুইটা পাব্লিকেশন কিন্তু আপনাকে রেস এ অনেক এগিয়ে দিতে পারে ।

আমি নিচের তিন টি পয়েন্ট এ ক্লিয়ার করার চেষ্টা করবো ঃ (১) আসল (সত্তিকার এর) জার্নাল (২) Predatory জার্নাল এবং (৩) জার্নাল এর impact factor :

(১) আসল (সত্যিকার এর) জার্নাল কিভাবে চিনবেন ?:

আসল বা সত্যিকারের জার্নাল বলতে এমন সব জার্নালকে ধরা হয় যেগুলো হয় Web of Science ইনডেক্সিং কিংবা Scopus ইনডেক্সিং অথবা এই দুটোতেই তালিকাভূক্ত আছে।

একটা জিনিস পরিষ্কার করার দরকার, Web of Science (লোকমুখে যেটাকে ISI ইনডেক্স বা Thomson Reuters বলা হয়ে থাকে) এবং Scopus, এই দুটো সম্পূর্ণ দুইটা আলাদা ডেটাবেইজ এবং আলাদা ইন্ডেক্সিং।

এ কারণে, এদের Impact Factor, Quartile Ranking (Q1, Q2 etc.) ইত্যাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিন্ন হয়।

Thomson Reuters আসলে Web of Science এর ডেটাবেইজ আর ইন্ডেক্সিং দেখাশোনা করতো, এখন আর ওরা করে না, এখন Clarivate Analytics নামে আরেকটা কম্পানি করে।

জার্নালের Quartile Ranking চেক করার জন্যে অনেকে SJR এর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে যেটা আসলে Scopus ইন্ডেক্সিং এর ভিত্তিতে Ranking দেখায়।

আমি এখানে Detail দিচ্ছি । এই লিস্ট এ যে জার্নাল গুলো আছে সেগুলির যে কোনটি তে আপনার university এর শিখখকের সাথে কথা বলে submit করতে পারেন ঃ

Scopus index journal list:

(২) Predatory কিংবা দুই নাম্বার জার্নাল কিভাবে চিনবেন ?:

এই বিষয় এ আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড Dr Rajat Das Gupta ভাই এর অত্যন্ত সুন্দর একটি লেখা আছে ঃ
“সকাল বেলা ইমেইল খুলেছেন। দেখলেন Austin Journal of Cancer and Clinical Research থেকে মেইল এসেছে। আপনাকে পেপার সাবমিট করতে বলা হয়েছে। মনের ভিতর আনন্দে লাফিয়ে উঠল।

এই তো আপনার জীবনের লক্ষ্য সফল হতে যাচ্ছে। কিন্তু না সাবধান। আপনি ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছেন। এইগুলো ভুয়া জার্নাল। সায়েন্টিফিক কমিউনিটিতে এদের নাম হচ্ছে প্রিডেটরি জার্নাল। এই জার্নালগুলো বেশির ভাগ সময় টাকার বিনিময়ে ঠিকমত পিয়ার রিভিউ না করেই আর্টিকেল পাবলিশ করে।

মাঝে মাঝে লেখা জমা দেওয়ার ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশিত হয়। এতে বিজ্ঞানের কোন লাভ হয় না। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে প্রিডেটরি জার্নাল বিশ্বব্যাপী ৭৪ মিলিয়ন ডলারের অনৈতিক ব্যবসা করেছে।

দিন দিন সেটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর শিকার আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের গবেষকরা।
একটা কথা মনে রাখবেন দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার আবেদন করলেন।

সিভিতে লিংক দিলেন আপনার প্রিডেটরি জার্নালে লেখা প্রকশিত হয়েছে। বাইরের কোন ভালো বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে নিবে না। ভালো বিশ্ববিদ্যালয় বললাম কারণ এখন বাইরেও প্রিডেটরি বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি হয়েছে। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি।

কিভাবে চিনবেন কোনটা ভুয়া জার্নাল। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান জিফারি বিল অনৈতিক জার্নালকে প্রিডেটরি জার্নাল হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিশ্বব্যাপী প্রিডেটরি জার্নালের একটি তালিকা করেন।

এ তালিকা https://beallslist.weebly.com সাইটে দেওয়া আছে। এ কথা মনে রাখবেন পাবমেড ইনডেক্স হলেই ভালো জার্নাল ভাবার উপায় নাই। পাবমেডের ভিতরেও প্রিডেটরি জার্নাল আছে।

মাঝে মাঝে প্রিডেটরি জার্নালগুলো প্রিডেটরি কনফারেন্স আয়োজন করে। তৃতীয় বিশ্বের অনেক জায়গায় মানুষ ইউরোপ বা আমেরিকান কনফারেন্স শুনলে বেশ গুরুত্ব দেয়। এরা রেজিস্ট্রেশন ফি এর নামে বড় অঙ্কের টাকা নেয়।

আরও কষ্টের বিষয় হল, এরা যে হোটেলে কনফারেন্স করবে সেখানকার সাথে একটা চুক্তিতে আসে। গেস্ট-রা এসব হোটেলে ওঠেন, কনফারেন্স এর আয়োজক-রা টাকার ভাগ পায়। এই নিয়ে এই লেখাটি পড়তে পারেন (goo.gl/shcLRm)।
…………

সবাই সৎ থাকবেন। একাডেমিয়াতে সততার কোন বিকল্প নাই।

লেখক: Dr Rajat Das Gupta
Research Associate
James P Grant School of Public Health
BRAC University”

(৩) জার্নাল এর impact factor কীভাবে বুঝা যায় ঃ

সত্তিকার এর জার্নাল এর মাঝেও একটা ব্যাপার আছে – কোন জার্নাল টি অন্য জার্নাল এর তুলনায়ে একটু বা বেশী ভালো । এটা আসলে এত সহজে বোঝা যায় না । তারপর ও মোটামুটি একটা ওয়ে হলও জার্নাল এর impact factor ।

সাধারণত যেই জার্নাল এর impact factor ১০ এর বেশি , সেই জার্নাল যে অসাধারণ জার্নাল -এটা সকলের ই বুঝা উচিৎ । আপনি নিজে একবার আপনার নিজের সবচাইতে ভালো কাজটি impact factor ১০ এর বেশি জার্নালে দিয়েই দেখতে পারেন ।

খুব ই কঠিন একটা কাজ হলও এই ধরণের জার্নালে Editorial Board কে পাড় করে Reviewer পর্যন্ত যাওয়া । দেখা যায় এই ধরণের জার্নালে ৮০-৯০% article ই Editorial board পাড় করতে পারে না ।

এর অর্থ এই না যে ঃ কোন ‘সত্যিকার’ জার্নাল এর impact factor ১ হলে , সেটি খারাপ । এই ব্যাপারে অভিজ্ঞ দের পরামর্শ নিতে পারেন । যেমন –
impact factor ১ কিন্তু জার্নালটি Q1 জার্নাল ; তাহলে কিন্তু সেটি ভালো জার্নাল । Q1 বা Q2 জার্নাল (ভালো জার্নাল ) বুঝবেন কিভাবে ?

এই ওয়েবসাইট টি থেকে ই বুঝা যায় ঃ
https://www.scimagojr.com/

তবে কেউ যদি বলেন ঃ impact factor ১০ এর বেশি জার্নালে পাবলিশ করা আসলে তেমন কঠিন / আহামরি কিছু না ( অথচ তার নিজের ই এই ধরনের পাব্লিকেশন নেই ) ;

তাহলে বুঝবেন যে তার আসলে এই ব্যাপারটি নিয়ে নিজের বিন্দুমাত্র personal অভিজ্ঞতা নেই। ব্যাপারটি কে এভাবে বুঝানো যায় একটি Analogy দিয়ে-

অনেকেই বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে বলেন – প্রশ্ন একদম পানির মত সহজ হয়েছে ; প্রশ্ন এর তেমন কোনও quality নাই !!! কিন্তু Result দিলে দেখা যায় ; তিনি হয়ত পাশ ই করেন নি।

তার কাছ থেকে আপনি অনেক কিছু নিয়ে পরামর্শ নিলেও ; ওই ধরণের পরীক্ষা নিয়ে খুব বেশী পরামর্শ নেওয়া মনে হয় খুব একটা বুধধিমানের কাজ হবে না ; তাই না ?

যাই হোক , আসল প্রশ্ন হলও ঃ এই journal impact factor আসলে কোন impact factor ?
উত্তরঃ এই impact factor হলও Thomson Reuters এর / Scopus এর impact factor [check my 1st point] ।

ভুলেও অন্য কোন ভুয়া impact factor বিশ্বাস করবেন না । Predatory কিংবা দুই নাম্বার জার্নাল গুলি ও কিন্তু এরকম impact factor অনেক সময় লিখে রাখে আপনাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ।

Higher Study এর একটি গ্রুপ এ একবার একজন বিএসসি student দাবি করে বসলেন ঃ তার তেরটি জার্নাল । পরে দেখা গেল তার সব জার্নাল ই predatory journal , যেগুলার কোন ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ই নেই ( বিদেশ এর প্রফেসর দের কাছে এই ধরনের কাজ পুরাই garbage) ।

আমদের দেশ এ যোগ্যতা না বরং বয়স দেখে promotion দেওয়ার কারনেই অনেক Univ টিচার ও এই ব্যাপারগুলি কিছুই বুঝেন না এবং ভুয়া জার্নাল এ নিজের নাম দিতেও গর্ব বোধ করেন।

– সম্ভব হলে আমার এই post টি সবার সাথে শেয়ার করবেন কারণ এতে অনেকের ই অর্থ ও সময় বাঁচবে এবং প্রতারণা থেকেও বেঁচে যাবে …… সবাই সৎ থাকবেন। একাডেমিয়াতে সততার কোন বিকল্প নাই।

ধন্যবাদ

মাহ্দী রহমান Mahdi Rahman Khan

Mahdy Rahman Khan

– Dr. Mahdy Rahman ,
Associate Professor, Dept. of ECE, NSU.
NSU URL: http://ece.northsouth.edu/people/mahdy-rahman-chowdhury/
My research group :
https://sites.google.com/view/nsuopticslab/members

Love the article? Press Like