মাটি, পানি ও পরিবেশ- ৩ টি বিষয়ই আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত হলেও এই বিষয়গুলো নিয়ে পড়ালেখার সুযোগ কিংবা আগ্রহ কোনোটাই খুব একটা দেখা যায়না। আমাদের দেশে হাতে গোনা যে ২-৩টি স্থানে এ বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ আছে, তারমধ্যে অন্যতম এবং অতি পুরোনো একটি হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গনের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত ‘মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ’ বিভাগ (১৯৪৯ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগ নামে প্রতিষ্ঠিত)।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তথাকথিত ‘টপ সাবজেক্ট’ গুলোয় পড়ালেখার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সিরিয়াল তুলনামূলক পেছনের দিকে থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা কিছুটা অনাগ্রহ নিয়েই এই বিভাগে এসে ভর্তি হয়। এর অন্যতম কারণ হতে পারে বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার অভাব। আজ আমরা তথাকথিত ‘পেছনের দিকের’ এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করব।

যা পড়ানো হয়-
এটি মূলত রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান নির্ভর একটি বিষয়। জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগ হলেও রসায়নের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। Pedology, Edaphology, Soil Physics, Soil Chemistry, Soil Microbiology, Soil Biochemistry, Agronomy, Soils of Bangladesh, Crops of Bangladesh, Soil Fertility & Plant Nutrition, Environmental Science, Ecology, Hydrology, Soil-Water Management, Pollution & Waste Management প্রভৃতি বিষয়ে পাঠদান করানো হয়ে থাকে। এছাড়া এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল মাইনর কোর্সের মধ্যে Chemistry, Botany, Geology, Geography, GIS, Mathematics, Statistics, English প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
অর্থাৎ যারা কেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি প্রভৃতি পড়তে আগ্রহী, তাদের নিঃসন্দেহে অন্যতম পছন্দ হতে পারে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ। এছাড়া যাদের ভ্রমণ পছন্দ, তাদের জন্য বাড়তি সুখবর হল ফিল্ড ওরিয়েন্টেড একটি বিষয় হওয়ায় এ বিভাগে রয়েছে বেশকিছু ট্যুর এবং ফিল্ড ট্রিপের সুযোগ।

কো কারিকুলাম-
কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজ এবং খেলাধুলার দিক দিয়েও এ বিভাগটি অন্যতম। প্রতিবছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছারা প্রতিবছর অন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট (Soil Premier League) এবং ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে। এছাড়া আন্তঃবিভাগীয় খেলাধুলায়ও এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকে।

কাজের ক্ষেত্র-
বহির্বিশ্বে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ ছাড়াও বাংলাদেশে এ বিভাগের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে রয়েছে বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক সেক্টর, যেমন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (BARI), বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট (BJRI), মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট (SRRI), তুলা উন্নয়ন বোর্ড (CDP), বাংলাদেশ কৃষি গবেশনা কাউন্সিল (BARC), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (BRRI), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা (BINA), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন কর্পোরেশন (RDI), বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (BTRI), গম গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, আম গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইন্সটিটিউট ইত্যাদি। এছাড়া পানি এবং পরিবেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন সেক্টর তো আছেই।
তাছাড়া বিসিএস পরীক্ষায়ও এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাফল্য লক্ষণীয়।

অসুবিধা-
সুবিধা-অসুবিধা একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ইংরেজি টার্ম গুলো বুঝতে কিংবা মনে রাখতে প্রথম প্রথম অনেকেরই কমবেশি অসুবিধা হতে পারে। এছাড়া প্রথম প্রথম কিছুক্ষেত্রে মুখস্থ রাখার একটা ব্যাপার চলে আসে। তবে এ ধরণের অসুবিধাগুলো সব বিভাগেই কমবেশি দেখা যায়। এছাড়া রসায়নে তুলনামূলক দূর্বল ছাত্রছাত্রীরা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

সর্বোপরি একটাই কথা,

উপরের দিকের কিংবা নিচের দিকের বিষয় বলে কিছু নেই, এগুলো সমাজপ্রচলিত Myth মাত্র। কে কোন বিষয়ে আগ্রহী এবং সেখানে কতটা ভালো করতে পারবে সাফল্য তার উপরেই নির্ভরশীল। তাই যেকোনো বিষয়ে অধ্যয়নের পূর্বেই সে বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো।

সকলের জন্য শুভকামনা রইলো। অনাগত ১২০ টি মুখ দেখার অপেক্ষায়।

ওয়াসি আহমেদ (সেশন ২০১৮-১৯)