একটি দেশ যখন ক্রাইসিসে পরে বা যুদ্ধে জড়িয়ে পরে তখনই নেতৃত্বের টেস্টিং হয়। আমেরিকার নেতৃত্ব এই টেস্ট দেয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পরে এবং তা চলে ঠান্ডা যুদ্ধ পর্যন্ত।

আমেরিকার নেতৃত্ব সেই পরীক্ষায় সফলভাবে পাশ করেছে বলেই আমেরিকা বিশ্বে সুপারপাওয়ার হয়েছে। সেই সময়ে আমেরিকার নেতৃত্ব একজন সঠিক ব্যক্তি Vannevar Bush-কে আমেরিকার শিক্ষা গবেষণার পলিসি তৈরীর দায়িত্ব দেয়।

Vannevar Bush ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানী। তিনি এমআইটির ফ্যাকাল্টি ছিলেন।

তিনিই ম্যানহাটন প্রজেক্টের স্থপতি যার হাত ধরে আমেরিকা নিউক্লিয়ার বোমা তৈরী করে। তিনি “Science The Endless Frontier” শিরোনামে একটি বিশাল রিপোর্ট চিঠি আকারে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে দেন।

সেই রিপোর্টে দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান এবং টেকনোলজির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং কিভাবে বিজ্ঞান এবং টেকনোলজির উন্নতি করা যায় তার প্রেসক্রিপশনও দেন। তিনিই . Office of Scientific Research and Development (OSRD) দায়িত্বে ছিলেন এবং পরবর্তীতে National Science Foundation তৈরিতে বিশাল ভূমিকা রাখেন।

ভারতেও একই ঘটনা ঘটে। আমেরিকার Vannevar Bush যেই ভূমিকা রেখেছিলেন ভারতের Homi J. Bhabha সেই ভূমিকা পালন করেন।

হোমি ভাভা ছিলেন একজন পদার্থবিদ এবং তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বন্ধ। তিনি টাটা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর ছিলেন। জওহরলাল নেহেরু একবার হোমি ভাভাকে চায়ের নিমন্ত্রণ করে তার কাছ থেকে জানতে চান তখন থেকে ৫০ বছর পর তিনি ভারতকে কোথায় দেখতে চান এবং সেখানে পৌঁছুতে হলে ভারতকে কোন পথে এগুতে হবে।

হোমি ভাভা বিস্তারিত একটি প্রেসক্রিপশন দেন এবং ভারত সেই পথ ধরে এগিয়েই শিক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। হোমি ভাভাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর বঙ্গবন্ধুও সঠিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার নাম ড.কুদরত এ খুদা।

এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালের মে মাসে ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট’ নামে। এতে পরিশিষ্ট বাদে ৩৬টি অধ্যায় ছিল এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল মোট ৪৩০। শিক্ষার উপর এত বিস্তারিত রিপোর্ট আর কখনো হয়নি। দুঃখের বিষয় ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে এই রিপোর্টেরও সমাধি হয়। এরপর আর তেমন ভালো রিপোর্ট কখনো প্রণয়ন হয়নি আর হলেও বাস্তবায়ন ঘটেনি।

প্রতিটি সরকার এসেই একটি শিক্ষা কমিশন করে। এটা যেন একটি রুটিন কাজ। কিন্তু কোন রিপোর্টই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষজ্ঞ দ্বারা প্রণীত রিপোর্ট ফাইল বন্দি করে আমলারা কাটছাট করে বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণীত হয়ে চলছে।

কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় khassan@du.ac.bd

কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় khassan@du.ac.bd

গত ৩০ বছর যাবৎ আমাদের বাংলা মাধ্যমের স্কুল কলেজের শিক্ষা নিয়ে যা ছেলেখেলা চলতে দেখছি তা বিশ্বে নজিরবিহীন।

কোনরূপ বিশেষজ্ঞদের গবেষণা লব্ধ অভিমত না নিয়ে কাট & পিস্ পদ্ধতিতে চলছে আমাদের শিক্ষা। কোন নির্দিষ্ট গোল নাই। তাই কোন পথে চলবে সেটা নির্দিষ্ট না। যে যখন যেদিকে সুবিধা দেখেছে সেইদিকেই চলেছে।

এইবার মাধ্যমিকে বিভাগ উঠিয়ে যা করা হলো তার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। এখানে বিজ্ঞানকে চরমভাবে অবহেলা করে হয়েছে। বিভাগ উঠিয়ে দেওয়া একদম ঠিক আছে।

কিন্তু তার সাথে যেটা করা উচিত ছিল সেটা করা হয়নি। উচিত হলো বিভাগ উঠিয়ে কয়েকটি বিষয় compulsory করে বিপুল বিষয় optional করা উচিত যেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বিষয় ছাত্রছাত্রীরা পছন্দ করতে পারে। এটিই উন্নত বিশ্বে করা হয় এবং আমাদেরকে এটিই করা উচিত।

Science, technology, engineering, and math—এই চার discipline কে সংক্ষেপে একত্রে STEM বলে। বর্তমান বিশ্বের শিক্ষা কারিকুলামে STEM-এর গুরুত্ব বাড়ছে কারণ STEM-এর হাত ধরেই একটি দেশ উন্নতির চরম শিখরে উঠতে পারে। একটি দেশের উন্নতির জন্য এর কোন বিকল্প নাই।

ফেসবুক থেকে