সিরাজুর রহমানঃ ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দাবি করে যে, রাশিয়া অত্যন্ত গোপনে মানব দেহের বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং এমনকি মানব দেহের জেনেটিক কোড পরিবর্তন করে অতি মানবীয় ক্ষমতার অধিকারী সুপার হিউম্যান বা বায়নিক সেনা তৈরির ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আর এমন নজিরবিহীন সংবাদটি ফাঁস করেছিল আসলে রাশিয়ার নিজস্ব স্পুটনিক নিউজ এজেন্সি।

তাদের দেয়া তথ্যমতে, পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছিল যে, অতি মানবীয় ক্ষমতার অধিকারী সেনা বা ‘বায়োনিক সুপারহিউম্যান সোলজার’ তৈরির লক্ষ্যে মানব দেহের সক্ষমতা যতটা সম্ভব বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত গোপনে কাজ করে যাচ্ছে রাশিয়ার পুতিন সামরিক বাহিনীর গবেষোণা শাখা।

তারই ধারাবাহিকতায় এই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে গোপনে মানব দেহের শক্তিশালী বাড়তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন এবংবিশেষ করে মানব মস্তিষ্কে ইমপ্ল্যান্ট বা সুপার মাইক্র চিপস বসানো জন্য ব্যাপক গবেষণা ও উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

পাশাপাশি চেষ্টা করা হচ্ছে বায়নিক সোলজারের জেনেটিক কোড পরিবর্তন করার। যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সুপার হিউম্যান সোলজার হয়ে উঠতে পারে অতি ভয়ঙ্কর এবং ধ্বংসাত্বক আগ্রাসী।

পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ভয়ঙ্কর মাত্রায় সক্রিয় কোন যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদী ধকল সেনাকে সহজে সহ্য করার উপযোগী করে তুলতে উদ্দীপক ওষুধ এবং স্টেরয়েড ব্যবহার নিয়ে গবেষণাগারে গোপনে পরীক্ষা চালাচ্ছে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা।

যদিও মানব শরীর নিয়ে এহেন গবেষণার বিষয়ে কখনো মুখ খুলেনি রাশিয়ার পুতিন প্রশাসন এবং এটি কতটুকু বাস্তব তা নিয়েও যথেষ্ঠ সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।

তবে এটা ঠিক যে, এই ধরণের সুপার হিউম্যান বা বায়নিক সোলজার তৈরির প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সফল হলে একজন বায়নিক সোলজার ভয়ঙ্কর যুদ্ধের পরিস্থিতি হাসিমুখে সহ্য করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে পারবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অকল্পনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে।

অন্যদিকে সুপার হিউম্যান সেনাকে ব্যাটল ফিল্ডের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কমাণ্ড দ্বিধাহীনভাবে মানতে বাধ্য করতে তার মস্তিষ্কে মাইক্রো এডভান্সড চিপস বসিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বেশ কিছু সুপার পাওয়ার দেশ।

তাছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসকের কোন ধরণের সাহায্য ছাড়াই দেহের যে কোন ক্ষত যেন নিজে নিজেই সারিয়ে তুলতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে আণুবীক্ষণিক প্রযুক্তি ব্যাবস্থা।

এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সেনার দেহে বসিয়ে দেওয়া হবে কাঙ্ক্ষিত চিপসসহ অতিক্ষুদ্র যান্ত্রিক ডিভাইস এবং সেনা-দেহকে সুপার হিউম্যান আকারে আরো শক্তিশালী করার জন্য দেহে বসানো হবে বহির্কঙ্কাল বা এক্সো-এস্কেলেটন সিস্টেম।

তাছাড়া বায়নিক সোলজারের হাত, পা, বাহুতে যোগ করা হবে অত্যন্ত শক্তিশালী যান্ত্রিক হাত, পা কিংবা বাহুসহ আরো নানা ধরণের বহির্কাঠামো বা বাড়তি দেহ কাঠামো।

যাতে একজন সেনা ইচ্ছে করলেই যুদ্ধক্ষেত্রে তার হাত, পা বা বাহু প্রয়োজনে খুব সহজেই ব্যাবহার করে তার শত্রু পক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়।

একই ভাবে একজন বায়নিক সেনা যেন তার বাড়তি দেহ কাঠামোকে ইচ্ছেমতো এবং প্রয়োজন মাফিক নাড়াতে বা ব্যবহার করতে পারেন তারও ব্যবস্থা করবে এই আণুবীক্ষণিক এবং উচ্চ প্রযুক্তির ডিভাইস।

আসলে হলিউডের সিনেমায় দেখা এক্স-ম্যান বা আয়রন ম্যান নায়কদের যে শক্তিশালী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাস্তবে অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়ান সুপার হিউম্যান সেনা সে রকম কিছু একটা হয়ত হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

যদিও বর্তমানে এ সম্ভাবনাটি একেবারে একটি কাল্পনিক বিজ্ঞান গল্প বলে মনে হতে পারে।
এদিকে অবশ্য মার্কিন সরকারের ডিফেন্স অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি বা ‘ডারপা’ তাদের নিজস্ব গোপন গবেষণাগারে এ জাতীয় সুপার হিউম্যান সোলজার তৈরির গবেষণাকে বৈধতা দিতে সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে করা হয়।

আর তাই সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাশিয়ানদের সুপার হিউম্যান তৈরির গবেষণার বিষয়টিকে বেশ জড়ালোভাবে প্রচার কিংবা উপস্থাপন করছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন অনেক সামরিক বিশ্লেষক।

এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে সুপার হিউম্যান সোলজার নামানোর গোপন গবেষণায় একেবারে পিছিয়ে নেই যুক্তরাজ্য।

২০১৫-১৬ সালের দিকে ফাঁস হওয়া এক গোপন নথীতে জানা যায়, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে যুদ্ধের ময়দানে অতিমানবীয় ক্ষমতা এবং সক্ষমতার অধিকারী সুপার হিউম্যান বা বায়নিক সোলজার নামানোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সম্ভাবনা যাচাই করছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তাছাড়া যুক্তরাজ্যের ডেইলী মেইল নিউজের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ২৩শে অক্টোবর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমীর পুতিন অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু ডিফেন্স ডেভলপমেন্ট ফার্ম মানব দেহের জেনেটিক কোড পরিবর্তন করে অতি ভয়ঙ্কর সুপার হিউম্যান সেনা তৈরির গবেষণা চালাচ্ছে।

Love the article? Press Like