ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ড থাকার সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

Home/Uncategorized/ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ড থাকার সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ
১. ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ড থাকলে আপনার কখনোই একা ফিল হওয়ার চান্স নাই! চাইলেই গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে যখন তখন ঘুরতে বের হয়ে যেতে পারবেন!
.
২. খাবার দাবার নিয়া আপনার টেনশন করার কোন দরকার নাই! যখন যা খেতে মন চাইবে বললেই গার্লফ্রেন্ড রান্না করে পাঠিয়ে দিবে!
.
৩. মিডটার্ম আর অ্যাসাইনমেন্ট একই দিনে পড়ে গেছে? নো টেনশন! গার্লফ্রেন্ড আছেনা! সেই অ্যাসাইনমেন্ট করে দিবে! আপনি নিশ্চিন্তে মিডটার্মের পড়া পড়তে পারবেন!
.
৪. সকালে উঠতে পারেন না? প্রায়ই সকালের ক্লাস মিস হয়ে যায়? ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ড থাকলে আপনার ক্লাস মিস হওয়ার কোন চান্সই নাই! সেই প্রতিদিন সকালে ফোন দিয়ে মিষ্টি করে ডেকে দিবে।
.
৫. ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ড থাকলে বিভিন্ন দিবসগুলোতে দামি দামি গিফট ও মজার মজার খাবার পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে!
.
৬. গার্লফ্রেন্ড যদি সেম ডিপার্টমেন্টের হয় তাইলে আপনার নোট করা নিয়ে কোন টেনশন করা লাগবেনা! গার্লফ্রেন্ডই সব নোট করে দিবে!
৭. এছাড়াও ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ড থাকলে রোমান্সের সুযোগ সুবিধা তো আছেই!!!
.
ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ড থাকার অসুবিধাসমূহঃ
.
১. আপনি জেনেশুনে নিজেকে পরাধীন বানাতে চান? তাইলে ক্যাম্পাসে একটা প্রেম করেন! পরাধীন কত প্রকার ও কি কি উদাহরণসহ টের যাবেন!
.
২. এমনও হতে পারে গার্লফ্রেন্ডের ১০০-২০০ পেইজের অ্যাসাইনমেন্ট করতে করতে আপনার নাম শহীদের তালিকায় উঠে যেতে পারে!
.
৩. গার্লফ্রেন্ড যদি বেশি ঢংগী হয়, খালি যদি রেস্টুরেন্টে যেতে চায়, দামি দামি গিফট চায় তাইলে অল্পকিছুদিনের মধ্যেই ক্যাম্পাসের মেইন গেইটে আপনার থালা নিয়া বসতে হতে পারে!
.
৪. আর গার্লফ্রেন্ড যদি অতিরিক্ত পরিমাণ রাগী হয় তাইলে তো আপনারে সারাদিন খালি ঝারির উপরে রাখবে! পাশাপাশি শ্যাম্পু কিনে হলের সামনে দিয়ে আসা, কলম কিনে দিয়ে আসা, বাজার করে দিয়ে আসা সহ বিভিন্ন কাজ করাতে করাতে আপনার জীবনটা একেবারে তেজপাতা বানিয়ে ফেলবে!
.
এখন আপনিই ঠিক করেন, আপনি কি ক্যাম্পাসে প্রেম করতে চান, নাকি চাননা 😊
#সাদী_খান
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
2019-01-26T15:39:00+06:00January 26th, 2019|Categories: Uncategorized|Tags: |0 Comments

Leave A Comment

একটা গল্প,
২০১৩ সাল। ক্লাস ৮ এ পরা ছেলেটার বাবা মারা যান হঠাত করে…!!!! পরিবারে এখন ৪ জন – মা, বড় ভাই, বড় বোন, ছেলেটা। বড় ভাই ও বোন বিবাহিত। নিজেকে সামলে নিয়ে ছেলেটা পড়ালেখা ঠিক রাখে। JSC তে গোল্ডেন সহ বৃত্তি পায়। কিন্তু রেসাল্ট দেখার পর যেই লোকটা সবচেয়ে খুশি হইত সে আর নাই। ভাল রেসাল্ট করেও ছেলেটা কানল খুব ওইদিন। এইদিকে বাবা মারা যাওয়ায় পরিবারের দায়িত্ব চলে যায় বড় ভাই এর কাধে। কিন্তু দায়িত্ব সামলান কোন এক কারনে সম্ভব হয় নি। পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া সহ খরচ দেওয়াও বন্ধ করে। মায়ের কান্না, পরিবার ভাঙে যাওয়া, যে ভাই তাকে নিজের চাইতেও এত ভালবাসত সেই ভাই এভাবে হাত ছাড়ে দেওয়া, অবশেষে নিজেকে সম্পূর্ন একা আবিষ্কার করা পর্যন্ত ছেলেটার ১ বছর কাটে। ক্লাস ৯ এ ওঠে সে। বাস্তবতা বুঝতে শেখে ধিরে ধিরে। পরিবার আর নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশন পরানো শুরু করে। কম্পিউটার এর কিছু কাজ শিখে এক দোকানে কাজ করে কয়েক মাস। যত দিন যায় ছেলেটা যেন পৃথিবীটাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। মানুষ গুলার কত গুলা রুপ থাকতে পারে আর সেগুলা কত বিচিত্র তা জানতে পারে। এভাবে চলতে চলতে ক্লাস ১০ এর ফাইনাল এক্সাম হয়। তার রেসাল্ট ফেইল আসে। পড়ালেখার প্রতি সময় দেওয়া হয় নি একদম, তার টনক নড়ে। সব কাজ বাদ দিয়ে আবার পড়ায় মনোযোগ দেয়। এস এস সি পর্যন্ত তার মায়ের কাছ থেকে কিছু জমানো টাকা দিয়ে খরচ চলে। অতিরিক্ত কোন খরচ করা যায় না। যেমন ছেলেটার যখন টেস্ট পেপার দরকার হইত সেটা কিনা সম্ভব হয় নি, বন্ধুর কাছ থেকে আগের দিন ধার করে নিয়ে আসে পরের দিন দিয়ে আসা হয়। এভাবে এক্সাম টা পার হয়। রেসাল্ট গোল্ডেন আসে। মিষ্টি খাওয়ার জন্য এক আত্নীয় কিছু টাকা দেয়। ছেলেটা মনে মনে ভাবে এই টাকা দিয়ে তো তিনদিনের বাজার হয়ে যাবে আমাদের। খামোখা মিষ্টি কিনে টাকা নষ্ট করার কোন মানে হয় না…!!! 
এইচ এস সি পরার ইচ্ছা ছিল তার ঢাকায়। ঢাকায় আসে এক কল সেন্টারে জব শুরু করে যাতে খরচ চালানোর একটা রাস্তা তৈরি হয়। কিন্তু ১ মাস পর বুঝা পায় এভাবে ঢাকা শহরে একিসাথে কাজ ও পড়ালেখা অই লেভেল টাতে সম্ভব না। নিজের শহরে ফেরত যায়। থাকার ব্যবস্থা না থাকায় মা চলে যায় নানু বাসা তে। ছেলে টা এবার সম্পুর্ন একা। প্রথম ৩-৪ মাস টিউশন না পাওয়ায় একটু কষ্টেই কাটে দিন। এক বন্ধুর বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর আর থাকা সম্ভব হয় নি। ছেলেটার একটু আত্নসম্মানবোধ বেশি ছিল বলে কারো কাছে হাত পাতা, কিছু চাওয়া সম্ভব হত না। তার বাবা তাকে কখনো হাত পাতা শিখায় নি। এক মেসে উঠার পর কোনো রাত, কোনো সকাল না খেয়ে পার করা, ঠান্ডায় পাতলা একটা চাদর নিয়ে কাপতে কাপতে রাত কাটানো এগলা নিত্যদিনের স্বাভাবিক ব্যপার ছিল। পরে আল্লাহর রহমতে টিউশনি পাওয়া যায়। কষ্ট কিছু টা কমে। মাকেও কিছু টাকা পাঠানো সম্ভব হয়। কিন্তু পরিশ্রম খুব বাড়ে যায়। কয়েকটা স্যার এর কাছে বিনা টাকায় পড়ার সুযোগ হয় ঠিক ই কিন্তু পড়াশোনা হয় না ঠিকমত। অনেক অভিজ্ঞতা, বাস্তবতা, হাসি, কষ্ট দিয়ে পার হয় ২ বছর। তার বন্ধুরা একদিকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে বাসায় স্যার রাখে পড়ত আর এইদিকে ওই ৪ হাজার পরিমান টাকা দিয়ে ছেলেটার পুরা মাসের খরচ চলত। তাও কেন জানি ছেলেটার এই জীবন টাই ভাল লাগত…!!!
অবষেশে হসচ এক্সাম ও পার হইল। ছেলে টা এবারো গোল্ডেন পেলো। 
তার সব বন্ধু এডমিশনের জন্য কোচিঙ এ ভর্তি হওয়া সহ বাসায় স্যার নেওয়ার কাজ ও শেষ করসে। ছেলেটার পক্ষে এত টাকা যোগার করা সম্ভব হয় নি। সে ঢাকায় এক খালার বাসায় এডমিশনের কয়েক মাস কাটায়। বাসায় পরে। নিজে নিজে যতটুকু সম্ভব হয় তার দ্বারা। সে চেষ্টা করতে থাকে। এটা ছাড়া যে তার হাতে র কিছু সম্ভব না..!!
অবষেশে সে কিছুটা সফল হয় :)। ৬ জায়গায় এক্সাম দিয়ে ৪ জায়গায় পায়। ঢাবি, সাস্ট, রুয়েট, কুয়েট এগ্লাতে আর কি। 
এই যাবত তার সাথে ছিল তার মা, আপু, কিছু খুব কাছের বন্ধু, একটা মেয়ে!!, কিছু কাছের মানুষ, একজন লোক যার কাছে সে চিরকৃতজ্ঞ। এই ৪ টা বছর তার অনেক কাজ। যার প্রধান টা হচ্ছে মায়ের কষ্ট কিভাবে কমানো যায়। কারন নিজের চোখের সামনে মাকে কষ্ট পাইতে দেখেও কিছু করতে না পারার মত আফসোস আর কান্না যে কি, যারা এই অবস্থার ভেতর দিয়ে গেসে তারাই জানে। সামনের রাস্তা যে কেমন হবে তা জানা নাই, তবে ছেলেটা তো চেষ্টা করেই যাবে, যুদ্ধ তো এখন তার জন্য অভ্যাস..!!! দেখাই যাক, কি হয় ….
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
KUET
EEE
2018-11-26T08:47:00+06:00November 26th, 2018|Categories: Uncategorized|0 Comments

Leave A Comment

Go to Top