গত সপ্তাহে হাইকোর্ট একটি রায়ে ক্রাফট ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে পদন্নোতির নির্দেশ দেয়।
কারিগরী শিক্ষাবোর্ডে ক্রাফট ইন্সট্রাকটর একটি ১৩ বা ১৭ গ্রেডের চাকুরি, যে পদের যোগ্যতা এইচএসসি ভোকেশনাল পাশ, অথবা এস এস সি ভোকেশনাল পাশ এবং অভিজ্ঞতা। এই পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটগুলোতে ল্যাব এবং শপে যন্ত্রপাতির দেখাশোনা করেন। এই পদের ২৫% ১৪ বা ১৮ গ্রেড থেকে পদন্নোতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। [৪], [৫]
২০২১ সালে ১৩ গ্রেডে ক্রাফট ইন্সট্রাকটর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদার্থ ও রসায়ন সহ স্নাতকদের নেয়া হয়, যেটা নিয়োগবিধি ২০২০ এর লঙ্ঘন। [২]
২০২৩ এর অক্টোবরের আগে তারা নিজেদের বেশী যোগ্যতার যুক্তিতে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে পদোন্নতির জন্য কাশিবো মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করে। সেটা গৃহীত না হওয়ায় ২০২৪ এ হাইকোর্টে রিট করে যাতে তাদের নন-টেক জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে পদন্নোতি দেয়া হয়৷ এই রিটের ফল হিসেবে ১৭ মার্চ ২০২৫ হাইকোর্ট তাদের ৩০% কোটার ভিত্তিতে পদোন্নতির আদেশ দেন। [৬]
যার প্রেক্ষিতে সারাদেশের পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
[উল্লেখ্য ২০২১ এর সার্কুলার প্রকাশের পর ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীধারী অনেকেই একই পোস্টে তাদেরকেও সুযোগ দেয়ার দাবী জানান, যেটা মূলত ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য কাঙ্খিত ক্যারিয়ার হিসেবে ছিলো। তাদের দাবী ছিলো, এতে তাদের জব ফিল্ড প্রসারিত হবে। ক্রাফট ইন্সট্রাকটরদের একটা যুক্তি ছিলো যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর পদটি ১০ম গ্রেডের এবং ২০২১ এর সার্কুলারে যোগদানকৃতরা দুই সহস্রাধিক গ্র্যাজুয়েট যারা-বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা সহ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার এবং বাকি সবাই বিএসসি (ফিজিক্স/ কেমিস্ট্রি) গ্র্যাজুয়েটসহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট] [১৬]
এরকম পরিস্থিতিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ফেসবুক গ্রুপেই আলোচনায় আসে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার বিভাগের চলতি দায়িত্বে উপ সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী পদে প্রকৌশলী হিসেবে পদন্নোতির পত্র এবং কিছু দাবী দেখা যায় এর পরিমাণ ৩৩% থেকে ৫০% এ বাড়ানোর জন্য। [৭], [৮]
যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ বিধি আলোচনায় ধরি, তাহলে উপ-সহকারী প্রকৌশল পদে যোগ দিয়ে প্রমোশন পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী, এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী সহ উপরের সব পোস্টেই প্রমোশনের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ একজন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীধারী এই ডিগ্রী দিয়েই প্রকৌশলীর জন্য থাকা সর্বোচ্চ পদে প্রমোশন পেয়ে যেতে পারে।
আবার কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের পলিটেকনিক শিক্ষক নিয়োগবিধিতে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে যোগ দেয়া ডিপ্লোমাধারী থেকে ৯ম গ্রেডের ইন্সট্রাক্টর পদে প্রমোশন পাবেন মোট পদের ৫০%। [৯]
এতে বিএসসি সম্পন্ন করা প্রার্থীদের সুযোগ অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে উপযুক্ত যোগ্যতা ছাড়াই শুধু প্রমোশনের মাধ্যমেই সে উচ্চপদে চলে যাচ্ছে। এতে কম যোগ্যতা থাকা সত্বেও বেশী যোগ্যতা চাহিদার পদ পূরণ করা হচ্ছে শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। [১৪]
উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি তৈরি করা হয় প্রকৌশলীদের কাজের মাঠ পর্যায়ে সুপারভিশন এর জন্য। ইমপ্লিমেন্টেশন করার জন্য প্রয়োজন সবসময় ফিল্ডে উপস্থিত থাকতে পারবে এবং ডিজাইন বুঝতে পারবে এমন ব্যক্তি।
অন্যদিকে প্লানিং বা ডিজাইনিং এর জন্য বিশদ জ্ঞান ও অন্যান্য টেকনিকাল সেক্টরের সাথে সমন্বয় করার উপযুক্ত ব্যক্তি প্রয়োজন। সেজন্য দুই ফিল্ডের পড়াশোনা ও ট্রেনিং আলাদা হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে স্বরণীয় যে, এখানে পদবীটা গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব বোঝাতে, গ্রেড বিবেচনায় আসে সম্মান বোঝাতে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদকে সম্মানিত করে ২য় শ্রেণীর মর্যাদা প্রদান করা হয় ১৯৯৪ সালে, যা এখন ১০ গ্রেড ভুক্ত। [১০]
পলিটেক/মনোটেকনিক ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী কাদের জন্য:
পলিটেকনিক মানে যেখানে অনেকগুলো টেকনিকাল বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়, আর মনোটেকনিক – যেখানে একটি টেকনিক্যাল বিষয়ে শেখানো হয়। এখানে ভোকেশনাল এর চেয়ে উন্নত সিলেবাস পড়ানো হয়। অন্যদিকে ভোকেশনাল সিলেবাসে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা দেয়া হয়।
এরকম স্কুল/ইনস্টিটিউটগুলো তৈরি করা হয় যাতে স্থানীয় জনগণকে টেকনিক্যাল বিষয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট কাজে দ্রুত পেশাদার করা যায়। এখানে ইম্পলিমেন্টেশন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ভাষাগুলোর সাথে পরিচিত করানো হয়, যাতে ডিজাইন সহজে বুঝতে পারে এবং প্রকৌশলীদের সাথে কমিউনিকেশন সহজ হয়।
যারা খুব দ্রুতই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চায়, বা কোনো বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে উচ্চত দক্ষতা ও ফিল্ডে নতুন জ্ঞান সংযুক্তির ইচ্ছা বা সুযোগ কম থাকে, তাদেরকেই কারিগরি শিক্ষায় উদ্ধুদ্ধ করা হয়। এতে বেকারত্ব কমে ও দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি পায়।
এই পড়াশোনা শেষে যখন কেউ নিজেকে সংশ্লিষ্ট সেক্টরে আরো উচ্চতর জ্ঞানের সাথে পরিচিত করাতে চায়, বা সুযোগ থাকে, তারা ব্যাচেলর ডিগ্রি নিতে পারে।
যখন প্লানিং ও ডিজাইনিং, নির্বাহী অফিস ও দপ্তর প্রধানের মতো পদ শুধুমাত্র টেকনিক্যাল স্কিল ধারীরা থাকবে, সেখানে উপযুক্ত আউটপুট পাওয়াটা দুরূহ।
ওভারল্যাপিং ইস্যু:
উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটির জন্য বিশেষভাবে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স ডিজাইন করা, একইভাবে ক্রাফট ইন্সট্রাকটর পদের জন্য ভোকেশনাল এডুকেশন ডিজাইন করা। যার অর্থ প্রকৌশলীর ডিজাইন বাস্তবায়নে সাহায্য করবে উপসহকারী প্রকৌশলী, আর টুলস রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্বে থাকবে ভোকেশনাল ট্রেনিং প্রাপ্তরা।
কিন্তু কাজের চেয়ে জনবল বেশী হওয়ায় চাহিদা জোগানের সূত্র অনুযায়ী অধিকতর যোগ্যরা নিম্ন যোগ্যতা চাহিদার কাজগুলোতে যুক্ত হচ্ছে, ফলে যেই পদের জন্য যাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে, সে সেই পদে যেতে পারছেনা।
আরো যুক্ত করলে – ক্রাফটের পদে এইচএসসি পাশ করার পর আরো উঁচু ডিগ্রী নেয়ারাও আবেদন করতে পারছে, এতে একজন এইচএসসি যোগ্যতা ধারীকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে স্নাতকের সাথে।
ক্রাফটের উদাহরণ আগেই দিয়েছি, উপ-সহকারী পদেই এরকম সমস্যার কথা আলোচনায় এসেছে। যেহেতু উপ-সহকারী পদে শুধুমাত্র DIE ডিগ্রীধারী আবেদন করতে পারে, সেহেতু DIE করার পর BSc সম্পন্নকারীরাও একই পদে আবেদন করে পরীক্ষা দিচ্ছে।
এতে পদের চেয়ে বেশী যোগ্য ব্যক্তির সাথে উপযুক্ত যোগ্য ব্যক্তির প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র DIE করা প্রার্থী বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে।
উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখি, ডিগ্রী নেয়ার জন্য ভর্তির আবেদন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, কিন্তু প্রফেশনাল পদে আবেদন করতে গেলে তার নির্দিষ্ট ডিগ্রী গুলো থাকতে হয়। এতে পড়াশোনা সবার জন্য ওপেন থাকলেও, যেকেউ যেকোনো পদে যোগ দিতে পারেনা।
এই উদাহরণের অবতারণা এজন্য যে, অনেক প্রকৌশলী উপ-সহকারীতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, সেটা অযৌক্তিক, যেরকম অযৌক্তিক উপ-সহকারীর ডিগ্রী নিয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করা।
অন্য সেক্টরের উদাহরণ টানলে বলা যায়, ডাক্তারের সহকারী যিনি হবেন – DMF, তার কাজ ডাক্তারের সহকারী হিসেবে সাথে থেকে ঔষধ পত্রের তালিকা করা, সাপ্লাই দেয়া, নোট লেখা। নার্স ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন অনুযায়ী রোগীর পথ্য সরবরাহ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ডাক্তারকে আপডেট জানাবেন। আর ডাক্তার মেডিক্যাল ইনভেস্টিগেশন অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করে উপযুক্ত ঔষধ দিবেন, বা সার্জন উপযুক্ত অস্ত্রপাচারের ব্যবস্থা করবেন।
প্রত্যেকের কাজ আলাদা এবং সেজন্য তাদেরকে প্রশিক্ষণ আলাদাভাবে দেয়া হয়।
ফলে, এক কাজের ট্রেনিং নিয়ে অন্য কাজে মাইগ্রেশানের ব্যবস্থা রাখাটা পুরো সেক্টরের অগ্রগতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে কারো সেক্টর পরবর্তন বা নির্দিষ্ট সেক্টরে যেতে চাইলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট অর্জনের দিকে যেতে হবে।
এবং আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আমরা সবাই একে অন্যের জন্য গুরত্বপূর্ণ, এবং সেভাবেই ক্রম বজায় রেখে চলতে হবে। ফ্লোর ক্রস করা যাবেনা।
প্রকৌশলী লেখা নিয়ে বিতর্কঃ
নামের আগে প্রকৌশলী লেখা নিয়ে একটা বিতর্ক প্রায়ই সামনে আসে। যদিও প্রকৌশল সেক্টরে প্রফেসর টাইটেল যুক্ত করা আলাদা কোনো বাজার তৈরি করেনা, যতটা মেডিকেল সেক্টরে করে।
নামের শুরুতে ডাক্তার ডিগ্রী বসালে তাকে ঔষধ প্রেস্ক্রাইবের উপযুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। যেহেতু মেডিকেল খুবই কমন সেক্টর, যেখানে সব মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হয়, বা সবারই ঔষধের প্রয়োজন হয়, তাই এখানে ভুল মানুষ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করলে এটা বড় বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।
কিন্তু প্রকৌশল সেক্টর অনেকবেশি স্ট্রিক্ট এবং ন্যারো।
এখানে সাধারণ মানুষের প্রকৌশলীর কাছে যেতে হয় মূলত বাড়ি বানানোর জন্য। যখন কেউ আপনার বাড়ি ডিজাইন করবে এবং সেই ডিজাইন আপনি স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরে জমা দিবেন, তখন সেখানে ডিজাইনারের লাইসেন্স আছে কিনা তা যাচাই করা হয়। ফলে কেউ একজন নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখে আপনাকে ডিজাইন করে দিলেও সেটা কাজে আসবেনা।
আবার এই লাইসেন্স এত জটিল যে, অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা প্রকৌশলী শুধু তা নিতে পারে, এবং এরবাইরে থেকে আপনি ইঞ্জিনিয়ার হলেও নামে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে পারবেন না। এটা রাষ্ট্রের গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত। ফলে কে লিখলো বা, লিখলো না, সেটা এখানে পার্থক্য তৈরি করেনা। বিষয়টা এমন যে, আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী প্রাপ্ত, আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে যুক্ত আছেন, কিন্তু আপনি নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার বলতে পারবেন না।
ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা নিয়েও অনেকে নামে এই পদবী বসায়, তবে সেটা খুব সামান্য পারিমানেই দেখেছি, এবং বেশীরভাগ শিক্ষার্থীরাই এটা নিয়ে সচেতন। ফলে এই বিষয়ে উদ্বেগ কিছু দেখিনা।
আবার একইসাথে ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীদের এটা মাথায় রাখতে হবে, তারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার না, বরং ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর ডিপ্লোমা প্রাপ্ত এবং তাদের বিভাগগুলোর নাম টেকনোলজি। অর্থাৎ, তাদেরকে ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরিকৃত সলুশন বিভিন্ন জায়গায় বাস্তবায়ন শেখানো হয়, প্রব্লেম সলভিং না।
নিজ সার্টিফিকেট এর অর্থ ভালোভাবে জানা থাকলেই সবাই নিজ মর্যাদা সঠিকভাবে ধারণ করতে পারবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও বিতর্কের প্রেক্ষিতে ইঞ্জিনিয়ার’স ডায়েরি টিম সরকারের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে কিছু সুপারিশ উত্থাপন করছে:
১। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কতজন প্রকৌশলীর বিপরীতে কতজন উপসহকারী প্রকৌশলী থাকবে, তার একটা নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করে দিতে হবে। ইমপ্লিমেন্টেশন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যেমন: পাউবো,তে ১:৩; ১ জন প্রকৌশলীর বিপরীতে ৩ জন, এবং প্লানিং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে ১:২ করা যেতে পারে। এটা সরকারি ও বেসরকারি, উভয়ধরণের প্রতিষ্ঠানেই নির্দিষ্ট থাকতে হবে।
বর্তমানে আমরা প্রায়শই এমন খবর পাই, অভ্যন্তরীণ অনিয়মের মাধ্যমে প্রকৌশলী কম নিয়োগ দেয়া হয়, এবং খরচ কমানোর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৌশলী না নিয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বেশী নিয়োগ দেয় এবং যোগ্যতার চেয়ে উচ্চতর কাজ করিয়ে নেয়। এতে কেউই প্রাপ্য সম্মান, যোগ্যতা অনুযায়ী পদ ও সম্মানি পাচ্ছে না।
২। ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ট্রি পোস্টে কোনোভাবেই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী ছাড়া নিয়োগ দেয়া যাবেনা। প্রমোশনের মাধ্যমে ইন্সট্রাক্টর, সহকারী-প্রকৌশলী ও অন্যান্য পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া যাবেনা। কেউ উপ-সহকারী পদে যোগ দিলে তাকেও প্রকৌশলী পদে আসার জন্য অন্য সবার সাথে পরীক্ষা দিয়ে আসতে হবে।
৩। ওভারল্যাপিং বন্ধ করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। নিম্ন যোগ্যতার পদে উচ্চতর ডিগ্রীর আবেদন কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল নিতে হবে। প্রয়োজন হলে আলাদাভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ৩য় শ্রেণীর পদে, ১ম শ্রেণির কেউ যদি প্রবেশ করতে চায়, তাহলে তাকে প্রথম শ্রেণীর অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করে যেতে হবে – এরকম কিছু বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এটা বাস্তবায়ন হলে ক্রাফট পদে ভোকেশনাল পাশ করেই প্রবেশ করতে পারবে এবং উপ-সহকারী পদেও শুধুমাত্র ডিপ্লোমাধারীরা প্রবেশ করতে পারবে। ডিপ্লোমা পাশ করে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিলে, তাকে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে দেয়াটা অন্যায্য।
এক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেয়া যেতে পারে। যেহেতু এইচএসসি পাশ করে ১৮ বছর বয়সে, সেহেতু এইচএসসি যোগ্যতা চাওয়া পদগুলোতে ২২ বা ২৩ বছর পর্যন্ত আবেদনের নিয়ম করা যেতে পারে। যেরকমটা মিলিটারিতে(২১) করা হয়। এতে বেশী যোগ্য প্রার্থী এড়ানো সম্ভব।
৪। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই সরকারি বেসিক গ্রেডের চেয়ে নিম্ন বেতনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাবেনা।
৫। যেসকল পদে উচ্চতর ডিগ্রী প্রয়োজন হয়, সেগুলোতে নিম্নতর ডিগ্রীধারীদের পদোন্নতি দেয়া যাবে না। যেমন:এইচএসসি যোগ্যতায় এন্ট্রি নিয়ে এমন পদে পদোন্নতি নেয়া যাবেনা, যেটার এন্ট্রি যোগ্যতা স্নাতক। একই যোগ্যতা চাওয়া পদে পদোন্নতি পেতে পারে।
সংযুক্তি: বিভিন্ন সার্কুলার ও গ্যাজেট
আরো পড়ুনঃ