উচ্চ শিক্ষার উন্নতির কল্পে আমার ছয়টি দফার প্রথম দফা হচ্ছে: শিক্ষক নিয়োগের tenured এন্ট্রি লেভেল হতে হবে সহকারী অধ্যাপক যার ন্যূনতম যোগ্যতা সহকারী অধ্যাপক।

বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা প্রভাষক পদটি রাখতে পারি nontenured বা অস্থায়ী পদ হিসাবে।

প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি দেখলে বুঝতে পারবেন সেই ১৯২১ সালে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন যেমন ছিল আজ প্রায় ১০০ বছর পরেও ঠিক তেমনই আছে।

এর মধ্যে বুড়িগঙ্গা একটি স্বচ্ছ পানির নদী থেকে একটি নর্দমায় পরিণত হয়েছে কিন্তু আমাদের নিয়মের কোন পরিবর্তন হয়নি।

শিক্ষকতা যেহেতু সমাজ বিনির্মানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তাই এর নিয়োগে বিশেষ করে স্থায়ী করার পূর্বে কয়েকটি স্তর থাকা উচিত। সারা পৃথিবীর ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে কি হয়?

সহকারী অধ্যাপক হিসাবে প্রথমে nontenured বা অস্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সময় তার পারফরম্যান্স যাচাই করা হয়। এমনকি শিক্ষক হিসাবে কেমন তা জানতে ছাত্রদের মূল্যায়ন খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।

Nontenured থাকা অবস্থায় কেমন গবেষণা করল, সহকর্মীদের সাথে টীম হিসাবে কাজ করতে পারছে কিনা ইত্যাদি খুঁটিনাটি নানা বিষয় দেখা হয়।

তারপর সবকিছ দেখে নিয়োগ বোর্ড বা সার্চ কমিটি যদি সন্তুষ্ট হয় তখন তার পদটি tenured করা হয়। পদার্থবিজ্ঞনে কাজের একটি সংগা আছে। কাজ হলো বল আর বলের দিকে সরণের গুনফল।

বল মানে চাপ। মানুষকেও চাপে রাখতে হয়। চাপ না থাকলে কাজ হবে না। একজন শিক্ষক নিয়োগ মানে ৩০-৩৫ বছর ধরে যত ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে তাদের পড়াবে এবং গবেষণা শিখাবে।

একটি ভুল নিয়োগ ৩০-৩৫ বছর ধরে আগত সকল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি করা হবে। শুধু তাই না একজন খারাপ মানুষ আরো অনেক মানুষকে খারাপ মানুষ তৈরী করে পরিবেশকে দূষিত করে।

আমাদের দেশের বাস্তবতায় প্রভাষক পদটি থাকতে পারে। যেটি হওয়া উচিত উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর মত। যে শুধু ল্যাব এবং টিউটোরিয়াল ক্লাস নিবে।

কারণ এই প্রভাষকরাই যখন ইউরোপ আমেরিকায় পিএইচডি করতে যায় সেখানে তারা এই কাজই করানো হয়। আমরা কি করি? ২০-২৫ মিনিটের একটি ইন্টারভিউয়ের মাধমে প্রভাষক হিসাবে একদম স্থায়ী পদে নিয়োগ দিয়ে ফেলি।

যার কেবল মাস্টার্স ডিগ্রী আছে। এইটা একটা huge রিস্ক। কারণ নিয়োগের পর তার পিএইচডি হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। এই পদ্ধতিতে আমরা এই রিস্কটা এড়াতে পারি।

অর্থাৎ কেউ যদি প্রভাষক পদে নিয়োগ পায়ও সে day one থেকে জানবে তাকে পিএইচডি করতেই হবে। আর পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়ার জন্য একজন প্রভাষককে অতিরিক্ত লোড দেওয়া একদম উচিত না।

তাকে সুযোগ দিতে হবে সে যেন পিএইচডি প্রোগ্রমে ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় ও আর্থিক সুবিধা পায়। আমরা এখন কি করছি? প্রভাষক নিয়োগ দিয়েই একজন মাস্টার্স পাশ শিক্ষকের কাঁধে সপ্তাহে ১৫-২০ ঘন্টার ক্লাস লোড চাপিয়ে দেই।

সাবজেক্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়াতে দেই যা তার আয়ত্বের বাহিরে। তার উপর তাকে সংকীর্ণ রাজনীতির মধ্যে ঢুকিয়ে দেই। যেই মুহূর্তে পিএইচডি করতে যাওয়া বা প্রস্তুতির সেরা সময় সেই সময়টা সে অপচয় করে দলান্ধ হতে।

এই সিস্টেম আমাদের ভাঙতেই হবে।

– কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক

ঢাবি