আমি এস‌এসসিতে জিপিএ ৫ পাইনি। আমি কি বুয়েটে পরীক্ষা দিতে পারবো?

👉 পারবে, বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এস‌এসসিতে জিপিএ ৫ কখনোই লাগে না। এস‌এসসিতে জিপিএ ৪ পেলেই তুমি পরীক্ষা দিতে পারবে।

অনেকের ধারণা এ প্লাস ছাড়া বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়া যায় না। এসব কথায় বিভ্রান্ত হবার দরকার নেই। বিগত বছরগুলোর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি একবার দেখলেই বুঝতে পারবে।

এইচএসসিতে জিপিএ পাঁচ না পেলে কি বুয়েটে পরীক্ষা দিতে পারবো?
👉 এইচএসসিতে জিপিএ ৫ না পেলেও বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়া যায়, ট্রাস্ট মি।

বুয়েটে পরীক্ষা দিতে এইচএসসিতে নূন্যতম জিপিএ ৪.৫০ লাগে।

এইচএসসিতে পদার্থ, রসায়ন, গণিতে এই তিন বিষয়ে মোট কত নম্বর পেলে বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়া যায়?

👉 বুয়েটে পদার্থ, রসায়ন, গণিতে এই তিন বিষয়ে প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম ১২০০০ জনকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এই নম্বর একেক বছর একেক রকম থাকে। একটা ছোট হিসাব দিই- ২০১৬ সালে ৬০০ এর মধ্যে সর্বশেষ ৫৩৯ নম্বর নিয়ে পরীক্ষা দিতে পেরেছিল।

২০১৭ সালে এই নম্বর ছিল ৪৮৬, ২০১৮ তে ছিল সম্ভবত ৪৬৫ এবং ২০১৯ এ ছিল ৫০১। ২০১৬ তে নম্বর অনেক বেশি ছিল কারন সে বছর এই‌চ‌এসসির প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল, সবাই প্রচুর নম্বর পেয়েছিল।

কাজেই ২০১৬ সালের নম্বর দেখে ভয় পাবার কারন নেই। ঠিকভাবে পরীক্ষা হলে ধরা যায় ৫১০+ পেলেই সেইফ। অর্থাৎ কমপক্ষে প্রতি বিষয়ে ৮৫ পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

কত পয়েন্ট পেলে পরীক্ষা দিতে পারবো?
👉 বুয়েটে আবেদনের জন্য গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইংরেজি এবং বাংলা এই পাঁচ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট গ্রেড পয়েন্ট চাওয়া হয়। ২০১৬ সালে এই পাঁচ বিষয়ের ২৫ পয়েন্টের মধ্যে ২৪ পয়েন্ট চাওয়া হয়েছিল।

২০১৭ সালে ২৩ এবং ২০১৮ সালে ২২.৫ পয়েন্ট চাওয়া হয়েছিল। প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এই পয়েন্ট কম বেশি করা হয়। তবে গত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বুয়েটের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

এতে শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে উচ্চমাধ্যমিকে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন এই তিন বিষয়ের সর্বমোট ৬০০ নম্বরের মধ্যে নূন্যতম ৪৮০ নম্বর চাওয়া হয়েছিল, সেই সাথে ২২ পয়েন্ট চাওয়া হয়।

উল্লেখিত যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে সকল আবেদনকারীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২০০০ জনকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

কিভাবে পড়লে বুয়েটে চান্স পাবো?
👉 প্রথমেই বলে রাখি, আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের চার শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট) মধ্যে বুয়েট পরীক্ষার প্রশ্ন সবচেয়ে সহজ আসে, আবার কম্পিটিশন সবচেয়ে বেশি হয় এখানেই।

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় অলমোস্ট 50-60% প্রশ্ন কমন থাকে, যা অন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষায় হয় না। কমন বলতে এখানে আমি বোঝাচ্ছি মেইন ব‌ই থেকে কিছু প্রশ্ন আসে হুবহু, কিছু প্রশ্নে অংশ আংশিক পরিবর্তন থাকতে পারে, কিছু প্রশ্নব্যাংক থেকে কমন আসতে পারে। আর ধরা যায় এগুলো সব ঠিক করে করতে পারলেই চান্স পাওয়া যায়।

এগুলো বাদে বাকি যে প্রশ্নগুলো আসে এগুলো মূলত ইউনিক, এগুলো কোনভাবেই কমন পাওয়া সম্ভব নয়, বরং মেরিটে প্রথমদিকে যারা থাকে তারা মেধা খাটিয়ে এগুলো সমাধান করে। অর্থাৎ ভাল দক্ষতা থাকলে এই প্রশ্নগুলো সমাধান করা যায়।

সম্পূর্ণটা সল্ভ করতে না পারলেও ঠিকভাবে যতটুকু করা হয় ততটুকুর ওপর‌ই নম্বর‌ দেওয়া হয় অর্থাৎ পার্সিয়াল মার্কিং করা হয় বুয়েটে। কাজেই সবচেয়ে প্রথমে ব‌ই এবং প্রশ্নব্যাংক রাখতে হবে নখদর্পনে।

বিষয়ভিত্তিক বলতে গেলে গণিতের জন্য এস ইউ আহমেদ এবং কেতাব‌উদ্দীন স্যারের ব‌ইয়ের সবগুলো অঙ্ক ভালভাবে রপ্ত করার সাথে সাথে বিগত বছরে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো‌ও ভালভাবে প্র্যাক্টিস করে রাখতে হবে।

ব‌ইয়ের প্রতিটা টাইপভিত্তিক সমস্যার বেসিক ক্লিয়ার থাকলে গণিতে ভাল নম্বর তোলা খুব একটা কঠিন ব্যাপার না।

আমার মনে হয় বুয়েটসহ সবগুলো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাতে পদার্থবিজ্ঞান বিষয় থেকে এমন প্রশ্ন করা হয় যেগুলো তুলনামূলকভাবে সহজ থাকে এবং দ্রুত উত্তর করে শেষ করা যায়।

তবে অঙ্ক করার জন্য সূত্রগুলো ভালভাবে রপ্ত করা থাকলে দ্রুত প্রশ্ন বুঝে উত্তর করে ফেলা যায়। প্র্যাক্টিসের জন্য যেকোন একটা ভাল লেখকের ব‌ইয়ের সবগুলো গাণিতিক সমস্যা সমাধান করে রাখতে হবে এবং থিওরি সম্পর্কে বেসিক ক্লিয়ার থাকতে হবে।

গাণিতিক অংশের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য প্রফেসর এটিএম শামসুর রহমান সেলু স্যারের বইয়ের অনুশীলনী এবং উদাহরণের সবগুলো গাণিতিক সমস্যা সমাধান করে রাখতে হবে। অথবা প্রফেসর মোঃ গোলাম হোসেন প্রামাণিক স্যারের বই থেকে করলেও চলবে।

আর ম্যাথ সল্ভ করতে পারার জন্য প্রয়োজন থিওরীর কনসেপ্ট ক্লিয়ার থাকা। থিওরী কভার করার জন্য প্রফেসর মোহাম্মদ ইসহাক স্যারের বই বেশ ভাল।

রসায়নে ভাল করতে হলে গাণিতিক সমস্যা এবং থিওরিতে সমানভাবে জোর দিতে হবে। হাজারী কিংবা সঞ্জিত কুমার গুহ স্যারের ব‌ইয়ের গাণিতিক সমস্যাগুলো অবশ্যই করে রাখতে হবে। যেখানে যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া আছে সেগুলো সব ভালোভাবে শিখে নিতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত রসায়নে অন্যান্য চ্যাপ্টারের তুলনায় বেশি প্রশ্ন থাকে জৈব রসায়ন থেকে, এগুলো পারার জন্য সব গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়াগুলো ভালভাবে বুঝে শিখতে হবে।
বিগত বছরগুলোতে আসা প্রশ্নগুলো বার বার প্র্যাক্টিস করলে প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

এগুলো সব ভালভাবে দখলে আনতে পারলে পরবর্তী কাজ হিসেবে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞান, গাণিতিক রসায়ন কিংবা কোচিং এর নোটগুলো দেখা যেতে পারে।

অথবা বাজারে এডমিশন সহায়ক বিভিন্ন ব‌ই কিনতে পাওয়া যায়, সেগুলো থেকেও চর্চা করা যেতে পারে। তবে মেইন ব‌ই এবং কোশ্চেন ব্যাঙ্ক ক্লিয়ার না থাকলে এসব করার প্রয়োজন নেই।

আমি ২০১৯ সালে এইচএসসি দিয়েছি। এবছর কি আমি বুয়েটে এপ্লাই করতে পারবো?
👉 না, যেই বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছো সেই বছর‌ই বুয়েটে পরীক্ষা দিতে পারবে। এখানে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার‌ কোন সুযোগ নেই।

তবে ইম্প্রুভ দিয়ে থাকলে বিষয় ভিন্ন। যদি আবেদনের যোগ্যতা না থাকার কারনে ২০১৯ এ তুমি আবেদন করতে না পারো এবং এবছর ইম্প্রুভ দিয়ে আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারো তবে এবছর তুমি আবেদন করে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে।

সারাদিনে কত ঘন্টা পড়লে বুয়েটে চান্স পাওয়া যায়?

👉 তোমার কতটুকু পড়ার সক্ষমতা আছে তা কেবল তুমিই জানো। তোমার যদি দিনে ২৪ ঘন্টার বেশি পড়ার ক্ষমতা থাকে তবে তাই করবে।

ভর্তি পরীক্ষার সময় সবাই তার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে, তাই অন্য কেউ কত ঘন্টা পড়েছে সেটা তোমার দেখার প্রয়োজন নেই।

তুমি যতক্ষণ পারো ততক্ষণ‌ই পড়ো। তাও যদি আমি আমার কথা বলি, আমি দিনে এভারেজ ১৫/১৬ ঘন্টা পড়তাম, এর চেয়ে বেশি সময় আমার পক্ষে বের করা সম্ভব হতো না।

এস‌এসসি/এইচএসসিতে অপশনাল সাবজেক্ট ম্যাথ থাকলে কি বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়া যাবে?

👉 এটা নিয়েও অনেকের মাঝে অনেক ভুল ধারণা আছে যে ম্যাথ মেইন সাবজেক্ট না হলে নাকি বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়া যায় না। এস‌এসসি/এইচ‌এসসির অপশনাল সাবজেক্টের ওপরে কোনকিছুই নির্ভর করে না।

যেটা তোমার ইচ্ছা হয় সেটাকেই অপশনাল রাখতে পারো, কোন অসুবিধা হবে না।

বুয়েটে কি কি বিষয়ের ওপরে কত নম্বরের পরীক্ষা হয়? সময় কতক্ষণ থাকে?

👉 পদার্থবিজ্ঞান, গণিত এবং রসায়ন এই তিন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে। সর্বমোট ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়, প্রতি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৬০টি প্রশ্ন থাকে, প্রতি প্রশ্নের মান ১০ (৬০×১০=৬০০)। মোট সময় থাকে ৩ ঘন্টা।

বুয়েটের মোট সিটসংখ্যা কত?

👉 মোট আসন সংখ্যা 1060 টি। ইঞ্জিনিয়ারিং এ 1005 টি এবং আর্কিটেকচারে 55 টি।

আর্কিটেকচার পরীক্ষা কত নম্বরের হয়? সময় কতক্ষণ থাকে?

👉 আর্কিটেকচার পরীক্ষার সময় থাকে ২ ঘন্টা এবং সর্বমোট ৪০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। এতে মোট ৫টি প্রশ্ন থাকে যার প্রতিটির মান ৮০ (৫×৮০=৪০০)। খ গ্রুপে আবেদনকারীরা ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে আর্কিটেকচার পরীক্ষা দিতে পারে।

এইচএসসিতে ইম্প্রুভ দিলে কি বুয়েটে পরীক্ষা দিতে পারবো?

👉 এর উত্তর আগেই দিয়ে এসেছি। ইম্প্রুভ দিয়ে আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে অবশ্যই পরীক্ষা দিতে পারবে।

আমি তো ভাল কলেজে চান্স পাইনি, আমার কি বুয়েটে চান্স পাওয়া সম্ভব?

👉 গ্রাম/মফস্বল থেকে উঠে আসা অনেক ছেলে মেয়েরা আছে যারা বুয়েটে পড়াশোনা করছে। কলেজের ভূমিকা থাকলেও কলেজ কখনো কাউকে চান্স পাইয়ে দেয় না। তুমি যেই কলেজেই পড়ো না কেন, সঠিক নিয়মে পড়াশোনা করলে অবশ্যই চান্স পাবে।

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় কি ক্যালকুলেটর ইউজ করতে দেয়?

👉 দেয়। যেকোন নন প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। সাধারণত আমরা যেগুলো ব্যবহার করি যেমন 991ES, 991ES PLUS, 991EX এই সবগুলোই ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া ওয়েবসাইটে ব্যবহারযোগ্য ক্যালকুলেটরের তালিকা দেওয়া থাকে, সেখান থেকে দেখে নিতে পারো।

অনেকে বলে থাকে একটার বেশি ক্যালকুলেটর ইউজ করা যায় না। আমি নিজেই ভর্তি পরীক্ষায় একটা 991EX, আরেকটা 991ES PLUS নিয়ে গেছিলাম। আর আমি বলবো সবাইর‌ই দুটো ক্যালকুলেটর নিয়ে যাওয়া উচিত যাতে কোন অবাঞ্ছিত সমস্যায় পড়তে না হয়।

ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাবে না, ঘড়িও না। প্রতি রুমেই ঘড়ি থাকার কথা, না থাকলেও পরিদর্শক কিছুক্ষণ পর পর সময় বলে দিবেন।

কি কি নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া যাবে?

👉 ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার সময় যা যা লাগে সেগুলো সব‌ই নিতে পারবে। জ্যামিতি বক্সের যাবতীয় জিনিস ব্যবহার করতে পারবে। তবে আর্কিটেকচার পরীক্ষার সময় পেন, পেন্সিল, ইরেজার, শার্পনার ছাড়া আর কিছু সাথে রাখতে পারবে না।

কোনরকম স্কেল, কম্পাস এগুলো ব্যবহার করা যাবে না, ফ্রি হ্যান্ডে আঁকতে হবে। পরীক্ষার হলে এডমিট কার্ডের সাথে এইচএসসির প্রবেশ পত্র নিয়ে যাবে।

বুয়েটে কি প্রশ্ন আর উত্তরপত্র আলাদা থাকে?

👉 না, প্রশ্নপত্রেই উত্তর দেওয়ার জন্য জায়গা নির্ধারিত থাকে, এর মধ্যেই উত্তর লেখা শেষ করতে হবে। প্রতি পৃষ্ঠায় ৩টি করে প্রশ্ন থাকে। যেহেতু জায়গা সীমিত, তাই প্রশ্ন ভাল করে বুঝে নিয়ে উত্তর করতে যাবে।

আগে থেকে যথাসম্ভব কম জায়গায় উত্তর লিখে শেষ করার চর্চা করবে। প্রশ্নপত্রের শেষে রাফ করার জন্য ২ পৃষ্ঠা ফাঁকা থাকে, প্রয়োজনে সেটা ব্যবহার করবে।

৩ ঘন্টা সময়ে ৬০টা প্রশ্ন শেষ করবো কিভাবে?
👉 বুঝতেই পারছো ৬০টা প্রশ্নের উত্তর করার জন্য ৩ ঘন্টা অনেক সীমিত সময়। প্রতি প্রশ্নের জন্য গড়ে ৩ মিনিট করে সময় পাওয়া যায়। ৬০টা প্রশ্নের‌ই উত্তর কেউ কখনো করে আসতে পারে না।

করনীয় হলো যেগুলো আগে পারবে সেগুলো আগে শেষ করবে, কঠিনগুলোয় পরে হাত দিবে। পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিট আগে রোল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস লেখার জন্য প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া হয়।

এগুলো ১ মিনিটে লেখা শেষ করে বাকি ৪ মিনিটে দ্রুত প্রশ্নগুলো দেখে নিয়ে মনে মনে ঠিক করে নিতে হবে কোনগুলো আগে উত্তর করবে।

প্রয়োজনে পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে রাখতে পারো, পরে মুছে ফেলবে। যেগুলো করতে সময় কম লাগবে সেগুলো আগে করবে, বেশি সময় লাগবে এমন জিনিস পারলেও সেটা পরে করবে, কারন সবগুলো প্রশ্নের মান‌ই ১০।

পারা জিনিসগুলো আগে শেষ করে নিয়ে তারপরে কঠিনগুলো ভেবে চিন্তে উত্তর করার চেষ্টা করতে হবে।

তাছাড়া যেহেতু পার্সিয়াল মার্কিং আছে কোন প্রশ্ন খালি রেখে আসা উচিত নয়, যতটুকু পারা যায় লিখে আসতে হবে।

অঙ্কগুলো কি একদম বিস্তারিত করতে হবে নাকি সংক্ষেপে করতে হবে?

👉 অঙ্ক সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নিয়মে করতে পারলেই নম্বর পাবে। যেহেতু জায়গা সীমিত থাকে, সে অনুযায়ী অঙ্ক করবে।

একসাথে বুয়েট আর মেডিকেলের জন্য প্রিপারেশন কিভাবে নিতে পারি?

👉 আমার মতে এই দুটোর প্রিপারেশন একসঙ্গে না নেওয়াই ভাল, কারণ মেডিকেল আর ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো দিক। তুমি খুব বেশি তুখোড় ধরনের স্টুডেন্ট না হলে এতে সফল হতে পারবে না।

বরং এমন অনেককে দেখেছি যারা একসাথে দুটোর প্রিপারেশন নিতে গিয়ে কোথাও চান্স পায়নি। এ নিয়ে অনেকে বিভিন্ন কারণে দোটানায় থাকে, বুঝে উঠতে পারে না যে কিসের প্রিপারেশন নেওয়া উচিত।

যার যেটা প্যাশন কিংবা যেটাতে তুমি নিজেকে বেশি ভাল বলে মনে করো সেটার জন্য প্রস্তুতি নাও, আশা করি তোমার লক্ষ্যে তুমি পৌঁছাতে পারবে।

বুয়েটে কি আসলেই silent expel করে দেয়?

👉 হ্যাঁ, জীবনের সবক্ষেত্রে অন্যের ওপর নির্ভর করে সফল হওয়া যায় না। কাজেই বুয়েটের মত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে নিতে চাইলে এখন থেকেই নিজের যোগ্যতা তৈরি করো।

কত নম্বর পেলে বুয়েটে চান্স পাওয়া যায়?

👉 এর উত্তর‌ও ইতিমধ্যে দিয়েছি। যেগুলো কমন থাকবে সেগুলো সব পারলেই চান্স পাওয়া যায়, আর কমন পাওয়া জিনিসগুলোও যদি না পারো তাহলে চান্স পাওয়ার আশা করা উচিত না।

যেহেতু চান্স প্রাপ্তদের নম্বর কখনো প্রকাশ করা হয় না, সবাই কেবল এটা নিয়ে ধারণাই করে থাকে। তাই ধরা যায় সঠিকভাবে 50-60% উত্তর করতে পারলে চান্স পাবে।

ওয়েটিং এ কত পর্যন্ত বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পায়?

👉 বুয়েটের জন্য ওয়েটিং বলে কিছু নেই। কিছু নেই বলতে হয়তো ওয়েটিং থেকে প্রথম ১০০/১৫০, খুব বেশি হলে ২০০ জন সাবজেক্ট পেতে পারে এবং কতজন পাবে এটা নেহাতই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে।

কাজেই চান্স পেতে হলে ওয়েটিং এর চিন্তা বাদ দিয়ে মেরিটে থাকার চিন্তা করতে হবে।

বেশ কিছুদিন ধরে তোমরা অনেকে বুয়েট সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চেয়েছো। সবার মোটামুটি সব প্রশ্নের উত্তর আজকে এখানে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর বাইরে আরো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারো।

Writter: Sajia Afrin Munia

আরো পড়ো হতে চাইলে BUETian

হতে চাইলে RUET’ian

বুয়েট এডমিশন তথ্য

প্রেরণার নাম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

জিপিএ-৫ না পেয়েও বুয়েট, ঢাবি ও জাবিতে চান্স পাওয়ার গল্প

শুয়ে বসে শুধু বুয়েট নিয়েই চিন্তা করতাম।

যেভাবে মূল্যায়ন করা হয় বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার খাতা

বুয়েট চান্স পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়া

বুয়েট নিয়ে সব তথ্য জানতে যোগ দাও আমাদের গ্রুপে। গ্রুপ লিংক